প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুলশান লেক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
১২ হাজার মানুষের আবাসন নিশ্চিত করে প্রকল্প আনতে হবে

সাইদ রিপন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে গুলশান লেকের পাশে বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা প্রশংসার দাবি রাখে। গুলশান লেকের পাশে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বসবাস করে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আমাদের চিন্তাতে না আসলেও প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে এ লেকের দুপাশে বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার মানুষকে অন্য জায়গায় সারিয়ে আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। এটা নিশ্চিত হলেই প্রকল্পটি পুনরায় একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাতিরঝিলের মতো ব্রিজ, ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা থাকবে। প্রকল্পটির আওতায় গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, শাহজাদপুর ও নিকেতন এলাকায় নয়টি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০০ ফুট।

রাজউক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি প্রথমে ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিলো। কিন্তু যথাসময়ে এটি বাস্তবায়ন করতে না পারায় প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনী ডিপিপিতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং মেয়ায় ২০২২ সাল পর্যন্ত বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির নতুন পরিকল্পনায় ৮৬ দশমিক ৪২ একরের পরিবর্তে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ৮০ দশমিক ১০ একর। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। হাতিরঝিল প্রকল্পের কোল ঘেঁষে অবৈধ দখল থেকে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উদ্ধার, লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং পানির গুণগত মান রক্ষাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের চারদিকের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে লেকের পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে।

নতুন এ লেকের ৯টি স্থানে হাতিরঝিলের মতোই নান্দনিক সেতু ও সেগুলোর ওপরে চারটি ওভারপাস তৈরি করা হবে। এর মধ্যে গুলশান ও বাড্ডার মধ্যে একটি এবং গুলশান-২ থেকে বারিধারা যেতে একটি সেতু নির্মাণ ছাড়াও নিকেতনে বিদ্যমান সেতুটি ভেঙে বড় সেতু তৈরি করা হবে। এছাড়া, শাহজাদপুরের ঝিলপাড়ে একটি, বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি, গুলশান-১ নম্বরের কাছে একটি, পুলিশ প্লাজা থেকে নিকেতন এবং বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ