প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিশ্রুতি রাখেনি তিনমন্ত্রী
সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন সোমবার

এস এম এ কালাম ও সমীরণ রায়: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি তারা। তিনমন্ত্রী কেন তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। এমনকি আমাদের জানানোর সৌজন্যটুকুও দেখাননি।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্পাদক পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কথা জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্য ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শুরু থেকেই সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। এমনকি তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সংগঠনটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও স্থগিত করেছিল। সর্বশেষ আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন সম্পাদকরা। ওই সময়ে তিনমন্ত্রী আইনটির কয়েকটি ধারার পরিবর্তন আনা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সম্পাদকদের কোনো ধরণের অবহিত না করে আইনটি সংসদে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেন। ফলে তিনমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েও বরখেলাপ করেছেন। এরই প্রতিবাদের আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুধুমাত্র সম্পাদক পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আইনটিতে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে সংবাদপত্রের কার্যালয়, ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেওয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করা, এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে। এই আইনে অস্পষ্টতা আছে ও এতে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এবং সহজেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে এক আতঙ্ক ও ভীতির তৈরি হবে এবং সাংবাদিকতা, বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

লিখিত বক্তব্যে ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়। এরমধ্যে অন্যতম সংবাদপত্রের কোনো বিষয়ে জব্দ বা আটকাতে গেলে অবশ্যই সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা ও কেন জব্দ বা আটকে দেওয়া হলো তার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে, সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেসকাউন্সিলে মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেসকাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা আইনটি বাতিল চাইনি। কতগুলো বিশেষ ধারার আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই পরিবর্তন সম্ভব। আমরা আশা করব, ওই সব ধারা সংশোধন করে আইনটি সংশোধন করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ