প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্রপতির আহ্বান, দেশনেত্রীর কারাজীবন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার: রাজনীতিতে গুণগত মান ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাজনীতিতে গুণগতমান আর নেই। টেন্ডার বাণিজ্যে, রিমান্ড বাণিজ্যোর মতোই রাজনৈতিক অঙ্গনে কমিটি বাণিজ্য, পদ-বাণিজ্য, নমিনেশন বাণিজ্য নামক কথাগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও উপেক্ষিত হচ্ছে চোঙা ফুকানো মাঠ থেকে উঠে আসা তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে লাভবান হয়েছে যাদের চরিত্র বা নীতি বলতে কোনো কিছু নেই। বরং মিউজিকাল চেয়ারের খেলার মতো ওঁৎ পেতে থাকে কাকে কখন ল্যাং মেরে নিজে চেয়ারে বসা যায়। নীতি, আদর্শ ও ত্যাগের কোনো বালাই নেই, চেয়ারটি হলেই হলো, ডান কি বাম, উত্তর কি দক্ষিণ, কোনো বাছ-বিচারের বালাই নেই।

নেশা শুধু জনগণকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সম্পদের পাহাড় জমিয়ে টাকা দিয়ে জনগণকে বান্দর নাচের মতো নাচানো। দেশে রাজনীতির যদি গুণগত মান থাকতো বা বিন্দুমাত্র চলনসই রাজনীতি থাকতো তবে ৭৩ বছর বয়সে অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে দিন যাপন করতে হতো না। রাজনীতির গুণগতমান বৃদ্ধিসহ সুস্থ ধারায় রাজনীতি চালু হলে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনীতিবিদদেরই এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সহযোগিতাও দরকার।

আইন ও নৈতিকতা এক বিষয় নয়। শেখ হাসিনা সরকার নিজেকে নির্বাচিত দাবি করে সুবিধামতো আইন প্রণয়ন করে নিজ ইচ্ছামাফিক দেশ শাসন করছে। কিন্তু নৈতিকতার মাপ-কাঠিতে সরকার কি নির্বাচিত? ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ২০১৮-কে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়’ বলে জাতিসংঘ মন্তব্য করেছে।

আইনটিকে অনুমোদন না করার জন্য সাংবাদিক মহল রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সাংবাদিকদের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ৯ অক্টোবর বিলটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে আইনে পরিণত হলো (!)। এমতাবস্থায়, নৈতিকতা নিয়ে যদি প্রশ্ন তুলি তবে কতটুকু অগ্রসর হওয়া যাবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের পরিপন্থী হয় তবে বর্ণিত আইনটি কালো না সাদা আইনের পর্যায়ভুক্ত হবে?

রাজনীতিতে সুস্থধারা, যা গুণগত মান বৃদ্ধি না হওয়ার পিছনে জনগণের দায় কম নয়। দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত হতে হতে জনগণের একটি অংশ ‘নগদ যা আছে তা হাত পেতে নাও বাকি থাক শূন্যের খাতায়’ এ নীতিতে জনগণ বা রাজনৈতিক দল যখন চলছে তখন রাজনীতির গুণগত মান উন্নতি হবে না। বরং মানুষ জনগণ।

জনগণের একটি অংশ নির্বাচন এলে নীতিবান প্রার্থী খোঁজে না, তাদের টার্গেট থাকে লুটেরাদের দিকে, যারা জনগণের টাকা লুট করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আর রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতা আকড়ে রাখার অনুশীলন করবে, কিন্তু নিজেদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট থাকবে না, তা হতে পারে না। রাজনীতির এই চলমান সংস্কৃতির অবসান না হলে স্বাধীনতার চেতনা অর্থহীন হয়ে যাবে।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ