প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরকালের পাথেয়

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : প্রত্যেক মুসলমান পিতা-মাতার কর্তব্য হচ্ছে ছেলে-মেয়েদেরকে যথাযথভাবে ধর্ম-কর্ম প্রতিপালনের উপযোগী করে গড়ে তোলা। আল্লাহর খাঁটি বান্দারূপে ইহলৌকিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার পথ সুগম করে দেয়া। হাশরের দিন প্রত্যেক মুসলমান পিতা-মাতা বা অভিভাবককে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে; যে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হবে তাকে ভোগ করতে হবে কঠোর শাস্তি। আাল্লাহ পাকের বিধি-নিষেধের কথা বাতলে দিয়ে সকল মানুষকে স্ব স্ব বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে পার্থিব জীবন যাপন করার সুযোগ দিয়েছেন।

বিপদগামীদেরকে সতর্ক করে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,‘ওয়া উমলী লাহুম, ইন্না কায়দী মাতিন’ অর্থাৎ পাপ কাজ করার সুযোগ দিয়ে তাদের জাহান্নামের পথ পরিষ্কার করা হয়, আমার এই কৌশল অব্যর্থ সন্দেহ নেই । (সুরা আরাফ আয়াতঃ আয়াত-১৮৩ঃপার-৯)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও নিরাকার জি¦ন সৃষ্টির সম্পর্কে স্পষ্টাক্ষরে ঘোষণা করেছেন, ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনছা ইল্লা লিইয়াবুদুন’ অথার্ৎ আমি জ্বিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি আমার এবাদত বন্দেগী করার জন্য। (সুরা যারিয়াত ঃ আয়াত-৫৬ঃ পারা -২৭)। এই পবিত্র ঘোষনার তাৎপর্য হচ্ছে জি¦ন ও সৃষ্টির মানুষের কর্তব্য হল আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও পন্থায় এবং নুরনবী (সা.) এর পথ নির্দেশ ও উপদেশ অনুসারে কাজ করে পার্থিব জীবন যাপন করা। আাল্লাহর খাঁটি বান্দা হওয়ার একাধিক স্তর বা পর্যায় রয়েছে প্রথমে কালেমা তায়্যেবা-‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ প্রকাশ্যে মুখে বলে এবং আন্তরিক ভাবে বিশ^াস করে পবিত্র ইসলাম ধর্মের গন্ডিভূত তথা মুসলমান হতে হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আর কয়েকটি কালেমা পড়ে তৎপ্রতি আস্থা স্থাপন তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর বিধি নিষেধাদি অনুসারে পার্থিব জীবন যাপনের জন্য অঙ্গীকার করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে, ইসলামী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হয়। তৎপরবর্তী পর্যায় হচ্ছে , মুত্তাকী বা পরহেজগার অর্থাৎ খাঁটি বান্দা হওয়ার জন্য তৎপর হওয়া। এ পর্যায়ে উপনিত হওয়ার লক্ষন হচ্ছে, পবিত্র কোরআন হাদিসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিধানাবলী পালনে গাফিলতি করলে বা ব্যর্থ হলে লজ্জা ও অনুশোচনায় অধির হওয়া। আল্লাহর নিকট অঙ্গিকার করে তা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তরিক ভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত না হলে-ঈমানের দৃঢ়তা থাকতে পারে না, এমনকি ঈমান হানি ও ঘটতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু, তিনি তওবাকারীদের কে অভয় দিয়ে বলেছেন,‘আমি অবশ্যই তার প্রতি ক্ষমাশীল হবো যে (খালেছ নিয়তে) তওবা করে, ঈমান আনে সৎ কাজ ধর্মীয় বিধান অনুসারে) করে এবং সৎপথে থাকে অবিচলিত। (সুরা-ত্বা-হা, আয়াত-৮২,পারা-১৬) পবিত্র কোরআনে সৎপথে অবস্থানকারীদেরকে অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যারা সৎপথ অবলম্বন করবে আল্লাহ তাদেরকে সৎপথে চলার শক্তি সামর্থ্য বাড়িয়ে দিবেন এবং তাদেরকে মোত্তাকী হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন।(সুরা-মুহাম্মদ,আয়াত -১৭পারা -২৬) প্রসঙ্গতঃ আল্লাহ পাক হযরত আদম (আ.) কে যখন পৃথিবীতে প্রেরন করেন তখন তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীতে না জানি কতই-না দুঃখ- দুর্দশার মধ্যে জীবন যাপন করতে হবে। তদুত্তরে আল্লাহ পাক বলেছিলেন, ‘পাথিব জীবনে যারা আমার প্রদর্শিত সহজ সরল পথ অনুসরণ করবে, তাদেরকে আমি অভয় দিচ্ছি তারা কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবেনা। (সুরা আল বাকারা, আয়াত -৩৮ পারা -০১) অতএব, নৈরাজ্যে হাবুডুবু না খেয়ে সময় থাকতে সর্ব শক্তিমান আল্লাহ পাকের শরাণাপন্ন হয়ে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ