প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশমুখী তৎপরতা, বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে

দেবদুলাল মুন্না : রাজনীতিবিদরা সব সময় বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না। আবার বিশেষ ইস্যুতে তাদেরই বিদেশনির্ভরতা বাড়ছে। সামনে নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশি সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন বাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, দুই দলেই যেন রীতিমত প্রতিযোগিতা দেখা দেয় এই কাজে। আর এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিদেশমুখী রাজনৈতিক-কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে রয়েছে। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার পরাশক্তি রাশিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতে কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি জোর দিয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রকল্প পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহায়তা করছে রাশিয়া। বিনিয়োগে সুবিধা পাচ্ছে চীন। আর ট্রানজিট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে ভারত। সেইসাথে ভারতবিরোধী কর্মকা-ের জন্য বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার হতে না দেয়ার নিশ্চয়তাও পেয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে রাশিয়া-চীন-ভারত বলয়ের আনুকূল্য পেতে পারে আওয়ামী লীগ, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ, জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বিশেষ ভূমিকার জন্য দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এই দুটি বিশেষ ঘটনা সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার সঙ্গে যত সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাৎ হয়েছে, তারা সবাই চাইছেন আওয়ামী লীগ যেন আরো একবার ক্ষমতায় আসে।

এর আগে গত মে মাসের শেষদিকে ভারত সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিজেপি সরকারের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ সম্পর্ক ভালো করেছে।

উল্টোদিকে বিএনপি আমেরিকা ও ইইউ-তে মিত্র খুঁজছে। নিউইয়র্কে সদর দপ্তরে জাতিসংঘের রাজনীতি বিভাগের একজন সচিবের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির তিন প্রতিনিধি। যদিও বিএনপি দাবি করেছিল, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব এ ধরনের কোনো আমন্ত্রণ জানাননি। উপরন্তু বিএনপি নেতারাই রাজনীতি বিভাগের তৃতীয় সচিব মিরোস্লাভ জেনেকার কাছ থেকে তাদের সঙ্গে বসার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে সরকারকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিভিন্ন দেশ, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শরণাপন্ন হচ্ছে বিএনপি।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি অর্জনের অংশ হিসেবে শুধু জাতিসংঘ নয়, ইতোপূর্বে বিএনপি কমনওয়েলথে চিঠিও দিয়েছে। কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড সে চিঠির জবাবে বিএনপিকে লিখে পাঠিয়েছেন, বিএনপি যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়। মির্জা ফখরুলের কাছে লেখা সে চিঠি এসে পৌঁছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। জানা গেছে, প্যাট্রিসিয়া লিখেছেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। এ জন্য আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন তিনি।

ভারতের আনুকূল্য পেতেও নানা তৎপরতা শুরু করেছে।

গত জুন মাসে হঠাৎ করে ভারত সফর করেন বিএনপি নেতারা। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কয়েক দিনের সফরে ভারতের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ), বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন (ভিআইএফ) ও রাজিব গান্ধী ফাউন্ডেশনসহ (আরজিএফ) বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে তারা বৈঠক করেন।

দুই প্রধান দলই সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে বিশ্বমহলে তৎপর। দেশের রাজনীতি অর্থাৎ একান্তই অভ্যন্তরীণ স্পর্শকাতর বিষয়ে বিদেশিদের প্রতি এ নির্ভরতাকে দেশের মানুষ কখনোই ভালো চোখে দেখে না। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিদেশনির্ভরতা দেশের রাজনৈতিক দলের দৈন্যেরই প্রকাশ। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ