Skip to main content

শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে বিচার কাজ আলোর মুখ দেখতো?

সৈয়দ জাহিদ হাসান : রাষ্ট্রীয় মদদে ২১ আগস্ট হামলা-মামলায় সংশ্লিষ্টদের অবশেষে শাস্তি হয়েছে। ঘাতকদের শাস্তি দেওয়ার উদাহরণ বাংলাদেশে আগে তেমন দেখা যায়নি। শেখ হাসিনাই প্রথম ঘাতক কাঁটা উপড়ে ফেলার ঝুঁকি নিয়েছেন। ৩৩ বছর ধরে ঘাতকরা অবিরাম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বাংলার বুকে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল সেটা ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা হয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বাংলাদেশ একটা সময় ঘাতক ও মৌলবাদীদের দখলে চলে গিয়েছিল। দিনে দিনে উগ্র থেকে উগ্রতর হচ্ছিল নৃশংস ঘাতকের দল। বুনো পশুর মতো হিংস্র আর ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলো তারা। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্র ওই হন্তারকদের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছে, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সে সময় তৈরি হয়েছিল আরেকটি বিকল্প জঙ্গি প্রশাসন। এখন জঙ্গি অধ্যুষিত এলাকায় যেমন আফগানিস্তান, মিশর, ইরাক, সিরিয়া কিংবা পাকিস্তানের কোথাও কোথাও যে ঘটনাগুলো দেখছি এবং আতঙ্কিত হয়ে উঠছি সেই ঘটনাগুলোই ঘটানোর পাঁয়তারা চলছিল বাংলাদেশে। বাংলাদেশ মৌলবাদীদের জন্য মোটেই অনুকূল নয়। ভৌগোলিক কারণেই এটা সম্ভব নয়। তবু বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র বানানোর জন্য যে প্রচেষ্টা স্বাধীনতাপূর্ব এ দেশে চলছিল সেই ধারাবাহিকতাই বজায় ছিল বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে। বিএনপির অঘোষিত প্রধান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশ জিম্মি হয়ে পড়েছিল জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কাছে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে একটি সাহসী প্রাণ বেঁচে থাকার কারণে জঙ্গিদের কবল থেকে মুক্ত আছে এ দেশ। শেখ হাসিনা আজ যদি বেঁচে না থাকতেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যদি ২৪টি প্রাণের সঙ্গে তার প্রাণটিও ঝরে যেত তাহলে কেমন হতো বাংলাদেশ? আজ আমরা কোথায় থাকতাম? কি হতো আমাদের পরিণাম? হত্যার রাজনীতি দেশে জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল। জঙ্গিদের সক্রিয় ও দাপুটে রাজনীতি শুরু হয়েছিল তারেক রহমানের হাত ধরে। পিতার চেয়ে পুত্র ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। অথচ ইচ্ছে করলেই পুত্রটি একটি আধুনিক, উন্নত দেশ উপহার দিতে পারতো মানুষকে। তারেক রহমান পোশাক-আশাকে আধুনিক হলেও চিন্তা-চেতনায় মধ্যযুগীয়। মধ্যযুগের স্বপ্ন যে মানুষ আধুনিক যুগে এসে দেখে মানুষ হিসেবে তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক বলা যায় না। বিরোধীপক্ষকে হত্যা করে, জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা চিরদিনের জন্য পোক্ত করতে চেয়েছিল জিয়া পরিবার। যাদের হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়, দেশের অর্থ যারা ইচ্ছে মতো পাচার করেছে বিদেশে, দুর্নীতিবাজ ও নরঘাতকদের যারা অপার সুযোগ দিয়েছে লুণ্ঠন ও হত্যার জন্য তাদের এবং তাদের পালের গোদা তারেক রহমানের শাস্তি কিছুটা কম হলো স্বস্তি এসেছে জনমনে। তারেক রহমান তার সংক্ষিপ্ত জীবনে এমন পাপ করেছেন, যে পাপ মাপার মতো বাটখারা পৃথিবীতে নেই। সেই সীমাহীন পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য যাবজ্জীবন কারাদ- লঘু শাস্তি হলেও এ রায় জানিয়ে দিল অনাচারী স্বভাব ভালো নয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনা করা হয় ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মসজিদে বসে। জোহরের নামাজ আদায় করে জঙ্গি নেতারা মসজিদের ভেতরে বসেই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পবিত্র ধর্মালয়ে যারা হত্যার পরিকল্পনা করে অপবিত্র করেছে, মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্য যথেষ্ট না হলেও এই রায়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে সেটা হলো জঙ্গিরা পবিত্র মসজিদ মাদরাসাকে ষড়যন্ত্রের মন্ত্রণাগার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ধর্মকে তারা ব্যবহার করেছে মানুষ হত্যার হাতিয়ার হিসেবে। যা জঙ্গিরা বরাবরই করে থাকে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠাকারী এই প্রত্যাশিত রায় নিয়ে বিএনপি যত কথাই বলুক, যা কিছুই প্রতিক্রিয়া দেখাক না কেন কিছুতেই তারা তাদের মহাপাপ আড়াল করতে পারেনি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দ-প্রাপ্ত আসামিদের পদমর্যাদা ও ব্যক্তিগত পরিচয় দেখে ১৫ আগস্টের কথা মনে পড়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যা করার জন্য সামরিক, বেসামরিক ও মন্ত্রীদের যোগসাজশে যে হত্যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ২১ আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা একই ধরনের হলেও এটা আরও ব্যাপক ও সুক্ষ্ম ছিল। শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে এ বিচার কাজ কখনোই আলোর মুখ দেখতো না। জেগে উঠতো না বাংলাদেশ। একটি নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকা-ের ইতিহাসও জানতো না মানুষ। লেখক : কবি ও কথাশিল্পী। [email protected]

অন্যান্য সংবাদ