প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রযুক্তি শিক্ষা ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কাজ পাবে না : বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

সমকাল: প্রযুক্তির বিকাশ আগামী দিনে মানুষের কাজের ধরন পাল্টে দেবে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, রোবটের ব্যবহার বাড়লে একদিকে কর্মসংস্থান কমে যাবে, অন্যদিকে সৃষ্টি হবে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কর্মসংস্থান। নতুন ধারার কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে এখন থেকেই উপযুক্ত শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। তখন এখনকার অভিভাবকরা তাদের কোনো জবাবও দিতে পারবেন না।

গতকাল শুক্রবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালির ওয়েস্টিন-বিআইসিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৮ এর মূল পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন ল্যাগার্ডে এ বার্তা দিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও স্যোশাল মিডিয়ার কারণে এক জায়গার মানুষ অন্য জায়গার মানুষের জীবনমান সম্পর্কে প্রায় সবই জানতে পারছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, এর মধ্য দিয়ে মানুষের আয় বাড়ানোর একটা প্রবণতাও সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন নেই যে, মানুষের প্রত্যাশা বাড়ার এই প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের সবার হাতে স্মার্টফোন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে।

জিম ইয়ং কিম বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কাজের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ও নতুন নতুন উদ্ভাবন অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে নতুন নতুন পেশারও সৃষ্টি হচ্ছে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল না। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যদি প্রত্যাশা বাড়ায় এবং কাজের ধরন পাল্টে দেয়, তাহলে অবশ্যই কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। মানুষ তাহলে কী করবে? কীভাবে তারা তাদের পরিবারের খরচ মেটাবে? জটিল বিশ্বব্যবস্থায় মানুষ কীভাবে তার স্বপ্ন পূরণ করবে?

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর একটিই- ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণের জন্য সরকারগুলোকে উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে তার সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারে, সেজন্য উপযুক্ত শিক্ষা, দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের নাতিপুতিরা যখন প্রশ্ন করবে- তুমি যখন জানলে আগামীর দুনিয়া আমার জন্য খুবই কঠিন হবে, তখন আমার ভালোর জন্য তুমি কী করেছিলে? তুমি যখন দেখলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের মধ্য দিয়েই পুরো দেশের কোটি মানুষের উন্নয়ন সম্ভব, তখন তুমি আমার জন্য কী করেছ? এখনই প্রস্তুতি না নিলে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কিছু থাকবে না।’

আইএমএফের এমডি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ডে বলেন, ডিজিটাল বিপ্লব একই সঙ্গে অনেক আনন্দ ও বেদনার কারণ হবে। বায়োটেক, রোবটিকস ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। তবে একই সঙ্গে প্রচলিত অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমাবে। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে টিকে থাকার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে এখন থেকেই।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ চীন। এ দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ৭০ বছর ধরে বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। বিশ্ববাণিজ্যের চলমান এই সংকট আগামী দুই বছর ধরে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ৯ অক্টোবর থেকে সম্মেলন শুরু হলেও মূল পর্ব শুরু হলো গতকাল। এ পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। জোকো উইদোদো বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব বা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না জড়িয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির স্বার্থে সব দেশকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ইন্দোনেশিয়ার সোলায়সী দ্বীপে সাম্প্রতিক সুনামিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে ১৪ অক্টোবর। এবারের সম্মেলনে মোট পনেরো হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল এখন বালিতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম, ভারপ্রাপ্ত অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের এই সভা হয়। পর পর দুটি বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থা দুটির সদর দপ্তরে হওয়ার পর তৃতীয় সভাটি হয় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সদস্যভুক্ত অন্য কোনো দেশে। ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে হবে এই সম্মেলন। ২০২১ সালের সম্মেলনটি হবে মরক্কোর রাজধানী মারাকাসে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ