প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই শাহবাগ এখন জনভোগান্তির নাম!

আরিফুর রহমান তুহিন : আন্দোলনের নাম এলেই চোখের সামনে ভেসে আসে শাহবাগের নাম। সঙ্গে মাথায় লাল-সবুজের পতাকা বাঁধা অদম্য তরুণ প্রজন্ম। সকলের চোখে-মুখে বারুদ প্রতিবাদের ছাপ। দাবি ‘প্রতিষ্ঠা’ নিয়ে বাড়ী না ফেরা প্রজন্মের সেই মিলনস্থল এখন জনভোগান্তির অপর নাম।

সম্প্রতি কোটা সংক্রান্ত আন্দোলনের কারণে রাজধানীর প্রজন্ম চত্বর খ্যাত শাহবাগের গোল চত্বর এলাকায় মানুষের জমায়েত বাড়ছে। এতে জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তবে কবে নাগাদ তাদের মুক্তি মিলবে সেকথা জানেন না কেউই।

বিগত কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শাহবাগ অবরোধের কারণে সবথেকে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই রুটে চলাচলরত নিয়মিত যাত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থ ও পাশের দুই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা। যান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদেরকে পায়ে হেঁটে কিংবা রিক্সায় অতিরিক্ত ভাড়া গুণে গন্তব্যে পৌছাতে হচ্ছে। এতে যেমনি তাদের বাড়ছে বাড়তি খরচ তেমনি সময়মত গন্তব্যে পৌছাতে না পারায় মাশুল দিতে হচ্ছে।

শাহবাগে নিয়মিত অবরোধের ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করে রাখে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়ক অবরোধের কারণে আশেপাশের সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এতে অন্য সড়কগুলোতে যানজটের কারণে সেই পথে চলাচলরতদেরও ভোগান্তি আরো বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও সরকারের ছাত্র সংগঠনের সহায়তায় কিছুদিনের জন্য শাহবাগ অবরোধ মুক্ত রাখলেও প্রায়ই সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখে। এর পরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ও শাহবাগ আবারো অবরুদ্ধ হয়ে পরে। মাঝে কিছুদিন ওই এলাকা অবরোধমুক্ত থাকলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।

চলতি অক্টোবর মাসের ৪ তারিখ সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সকল চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর আবারো অবরোধের কবলে পড়ে শাহবাগ। ‘মুক্তিযুদ্ধ সন্তান কমান্ড’ নামে একটি সংগঠন ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করে রাখে। তারা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাদের সাথে যোগ দেয় ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের কোটা বহালের নামে আরেকটি সংগঠন। বাধ্য হয়ে সকল যানবাহন ভিন্ন রুটে চলাচল করে।

বিগত কয়েকদিন যাবত রাজধানীর মৎস ভবন রোড, কাকরাইল, কাওরান বাজার সড়ক, এলিফেন্ট রোডে চরম যানজট বিরাজ করছে। ওই পথে চলাচলকারিদের আগের সময়ের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি সময় লাগছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড তাদের অবরোধ উঠিয়ে নিলে বৃহস্পতিবার থেকে ওই সড়ক অবরোধ করেছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ। তারা সরকারি চাকরিতে তাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা বহালের দাবিতে অনিদৃষ্টকালের জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
ওই পথে চলাচলকারি প্রকৌশলী সাজ্জাদ জানান, প্রতিদিন তাকে মৎস ভবন থেকে এলিফেন্ট রোড পর্যন্ত পায়ে হেঁটে আসতে হয়। প্রথম দুই দিন রিক্সায় এসেছিলেন। কিন্তু তারাও স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম মুরাদ আলি জানান, শাহবাগ কেন্দ্রীক আন্দোলনের কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তাদেরকে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কে ডাইভারশন দিয়ে ভিন্ন রুটে যান চলাচল করার কারণে ট্রাফিকের চাপ বেড়ে যায়। তারা আন্দোলনকারিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছেন। যাতে যান চলাচলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ