প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৌশল ও রুট পরিবর্তন করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা: র‌্যাব ডিজি

সুজন কৈরী: র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, গত পাঁচ মাসে টানা অভিযানের কারণে মাদক এখন দুষ্প্রাপ্য। প্রকাশ্যে মাদক বেঁচাকেনা নেই। মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল ও রুট পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি অভিযানের কারণে মাদকসেবীরাও মাদক ছেড়ে দিচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে মাদক ব্যবসায়ীর গুলিতে আহত তিন র‌্যাব সদস্যকে ঢাকার সিএমএইচে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যাবের ডিজি জানান, তিন জনকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। একজনকে চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে শনিবার হেলিকপ্টারে করে তাকেও ঢাকায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, একটি চেক পোস্ট ছিল। একটি নীল রঙের গাড়ি দ্রুত বেগে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে দেখে দায়িত্বরতরা গাড়িটি থামানোর সিগন্যাল দেয়। তখন গাড়ি থেকে নেমে একজন এলোপাতাড়ি গুলি করে। ফলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুজন অফিসার গুলিবিদ্ধ হন। তখন সঙ্গে যারা ছিল, তারা পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও সে তিন রাউন্ড গুলি করে। এরমধ্যে দুটি গুলি আমাদের দুজন সৈনিকের শরীরে বিদ্ধ হয়েছে। পরে গাড়িটা সার্চ করে ১২ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি মোবাইল ফোন, ম্যাগাজিন ও গুলি পাওয়া গেছে। কিছু ফায়ার কার্তুজও পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, র‌্যাবকে লক্ষ্য করে যে ব্যক্তি গুলি করছিল, সে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পর মারা যায়। গাড়িতে আরো লোক ছিল। গোলাগুলি চলার সময় তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।তবে তাদের আটকের জন্য র‌্যাব চেষ্টা চালাচ্ছে।

বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা র‌্যাবের তিন সদস্যকে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। যিনি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাকে চট্টগ্রামেই রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত পাঁচ মাসের অভিযানে এটা বড় দুর্ঘটনা বলে দাবি করে র‌্যাব প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত পাঁচ মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই প্রথম একটি বড় দুর্ঘটনা হলো। দেশ মাদকমুক্ত করতে যে প্রত্যয় নিয়ে আমাদের অফিসাররা কাজ করছেন এর মধ্যে এবারই প্রথম আমরা এ ধরনের মারাত্মক ক্যাজুয়ালিটির সম্মুখীন হয়েছি। এতে আমরা মোটেই হতাশ নই। আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করবো যারা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে তারা দ্রুত ফিরে আসতে পারেন। আমাদের যে যুদ্ধ সে যুদ্ধ যেন চালিয়ে যেতে পারি। তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, এ দুর্ঘটনা মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের যুদ্ধকে আরো বেশি বেগবান করবে। আপনাো জানেন, গত পাঁচ মাসের অভিযানে আমরা প্রায় সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার করেছি। প্রায় ১৭ হাজার মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ফলে যেটা হয়েছে দেশে এখন মাদকের প্রকোপ অনেক কম। প্রকাশ্যে মাদক বেঁচাকেনার যে অভিযোগগুলো পাওয়া যেত, এখন আর নাই। কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে দমন করার পর তারা রুট ও কৌশল পরিবর্তন করেছে। এমনকি যারা মাদক গ্রহণ করে তারা অনেকেই মাদক ছেড়ে দিয়েছে। অনেকে আবার ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রিহ্যাবে ভর্তি হয়েছে। মাদক এখন অনেকটা দুষ্প্রাপ্য। এক সময়ের ১০০ টাকার মাদকএখন ৬ থেকে ৭শ’ টাকায় বিক্রি হয়। আমাদের এ অভিযানের একটা প্রভাব পড়েছে। যতদিন প্রয়োজন পড়ে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে এক নম্বর রেল গেটের পাশে একটি চেকপোস্টে দায়িত্বরত র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে অসীম রায় বাবু (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুহয়। এ সময় আহত হন চারজন র‌্যাব সদস্য। আহত র‌্যাব সদস্যরা হলেন মেজর মেহেদী হাসান, স্কোয়াড্রন লিডার সাফায়েত জামিল ফাহিম, ল্যান্স করপোরাল আরিফ ও শহীদ। স্কোয়াড্রন লিডার সাফায়েত জামিল চট্টগ্রামের সিএমইচে চিকিৎসাধীন। বাকিদের শুক্রবার ঢাকায় আনা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত