প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্ধ পৃথিবী জয়ী উমর রা.

আমিন মুনশি : হজরত উমর (রা.) ছিলেন প্রথম আমিরুল মুমেমিন বা বিশ্বাসীদের নেতা। মুসলিম শাসকদের এই খেতাব তাঁকে দিয়েই শুরু হয়। উমরের শাসনামল নানা কারণে ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সাম্রাজ্য বৃদ্ধি। ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।

বীর যোদ্ধা উমর (রা.) তাঁর খিলাফতের সীমানা অকল্পনীয়ভাবে বাড়াতে শুরু করেন। একে একে তিনি সাসানীয় সাম্রাজ্য ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। তাঁর শাসনামলে জেরুজালেমও মুসলিমদের দখলে ছিল। তিনি পূর্বের খ্রিস্টান রীতির বদলে ইহুদিদের জেরুজালেমে বসবাস ও উপাসনা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি নাজরান আর খায়বারের ইহুদি ও খ্রিস্টান গোত্রগুলোকে সিরিয়া আর ইরাকে অবস্থান দেন।

শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন কঠোর। তবে দরিদ্র ও অসহায়ের কাছে তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়ের মানুষ। আইন ও বিচার ক্ষেত্রে হজরত উমর (রা.)-এর দক্ষতা ইসলামে সাম্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা এনেছে। তিনি ইসলামের মহান কল্যাণে দাসপ্রথা উঠিয়ে দেন। রিদ্দার যুদ্ধের হাজার হাজার বেদুইন যুদ্ধবন্দীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্ত করে দেন তিনি। এতে বেদুইন গোত্রগুলোর মাঝে হজরত উমর (রা)-এর জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়।

হজরত উমর (রা)-এর শাসনামলে অল্প সময়েই ইসলামী সাম্রাজ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি আদমশুমারি করে মুসলিম জনসংখ্যা গণনা করেন। ৬৩৮ সালে তিনি একই সঙ্গে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী সম্প্রসারণ করেন। ৬৩৩ সালে পারস্য থেকে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তার শুরু। ৬৪২ সালে চূড়ান্তভাবে পারস্য বিজয় হলে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার জয়গান গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ফার্স, এরপর দক্ষিণ-পূর্ব পারস্য, সাকাস্তান, আজারবাইজান, আরমেনিয়া এবং খোরাসান জয়ের মাধ্যমে পারস্য পুরোপুরি মুসলিমদের অধিকারে চলে আসে। সাসানীয় সাম্রাজ্য ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বড় অংশ জয় করে হজরত উমর (রা.) ইসলামের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। মাত্র ১০ বছরের কিছু বেশি সময় শাসনকালে অর্ধজাহানের শাসক হয়ে ওঠেন হজরত উমর (রা.)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ