প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্ষাৎকারে প্রকৌশলী আবদুস সবুর
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চমক থাকবে ইশতিহারে

বঙ্গবন্ধুর আদর্শেকে ধারণ করে ছাত্র-জীবন থেকেই রাজনীতিতে পর্দাপন কওে বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করী এবং প্রকৌশলীদের শীর্ষ সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) সভাপতি এক সময়ের তুখরছাত্র নেতা কুমিল্লা-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য, নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের ইশতেহারসহ নানা বিষয়ে নিয়ে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম আমাদেরসময়.কমের প্রতিবেদক আহমেদ জাফরের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর।

প্রশ্ন: আ.লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরেও কেন এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করে?

আবদুস সবুর: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জ্বালায় পোড়াও,খুন,গুম ,জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকা-ে, বিএনপি-জামায়তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করতে পারে। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-কে মোকাবেলা করাই চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন: নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আ.লীগ কোনো শঙ্কিত কি না?

আবদুস সবুর: এটা কোনো জাতীয় ঐক্য নয়, এটা অশুভ শক্তির জোট। যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ১৫ ও ২১ আগস্ট অশুভ শক্তির জোট করেছিল তাদের এ জোট। আওয়ামী লীগ একটি প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা সাধারণ মানুষের রাজনীতি করি। দেশের জনগণই আমাদের মূল শক্তি। আওয়ামী লীগ কোনো জাতীয় ঐক্য নিয়ে শঙ্কিত নয়। জনগণের ঐক্যই বড় ঐক্য।

প্রশ্ন :ইশতিহারে কোন কোন বিষয় থাকতে পারে?

আবদুস সবুর: গ্রাম গঞ্জের মানুষের সাথে কথা বলে তাদের কাঙ্খিত চাহিদা অনুযায়ী ইশতিহার করা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী ইশতেহারেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু চমকই থাকবে। যা সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন হবে। উন্নয়নের বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছেন গ্রামকে শহরের মত আধুনিকায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণ আধুনিক টেকনোলজির সব সুযোগ সুবিধা পাবে। ইশতেহার নিয়ে দলের মধ্যে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১শত বছরের একটি পরিকল্পনা করেছেন, যেটা ‘ডেল্টা ২১০০’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন:অনলাইনে মনোনয়নের আবেদন ও জমা দেয়া ব্যাবস্থা আছে কি না?

আবদুস সবুর: এখনো অনলাইনে মনোনয়ন আবেদন ও জমা দেয়া ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে করা হবে।

প্রশ্ন:বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যর নেতারা খালেদা জিয়া মুক্তিসহ ৭ দফা না মানলে নির্বাচনে অংশ নিবে না?

আবদুস সবুর: নির্বাচনে কোনো দল অংশ না নিলে নির্বাচন বন্ধ থাকবে না। স্বাধীনতা বিরোধী ২১ ও ১৫ আগস্ট হামলাকারীদের জোট। এ জোটের ভবিষ্যত ভালো হবে না। খালেদা জিয়া মক্তির পদ দুইটি, আইন আদালতের মাধ্যমে অন্যটি রাষ্ট্রপতির কছে ক্ষমা চাওয়া। মুক্তির বিষয় সরকারের কোনো হাত নেই। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: নির্বাচনকালীন সরকারে কাদের থাকার সম্ভাবনা আছে?

আবদুস সবুর: নির্বাচনকালীন সরকারের সময় মন্ত্রীসভা ছোট করা হবে। সরকারের রুটিন ওর্য়াক অনুযায়ী কাজ করা হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্বে দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রশ্ন: বর্তমান এমপি থাকতে আপনাকে কেন মনোনয়ন দিবে বলে মনে করছে?

আবদুস সবুর: যেহুত আমি ইঞ্জিনিয়ার তাই জনগণ মনে করে আমি এমপি হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হেবে। আগামী দিনে আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের জানমালের তুলনামূলক নিরাপত্তাটা আরও বেশি দেওয়া। সবদিক থেকে নিরাপদ ও শান্তিতে থাকবে। তাছাড়া তৃর্ণমূল নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন হবে, সকল দাবি দেয়ার সুযোগ পাবে। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা শতকরা ৯০ভাগ ভালো করছেন। আমি বলবো না শতভাগ ভালো কাজ করছেন। শতভাগ ভালো হলে তো আর পরিবর্তনের দরকার ছিল না। মানুষ যা প্রত্যাশা করে তা পূরণ করতে না পারলেই পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি সংগঠনে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে কিন্তু জনগণ যাকে সমর্থন দিবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নৌকার মনোনয়ন দিবেন। আমি মনোনয়ন না পেলে প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকার পক্ষে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবো।

প্রশ্ন: এমপি হতে পারলে এলাকার জন্য কী কী কাজ করবেন?

আবদুস সবুর: আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেখেছি দাউদকান্দি ও মেঘনা ঢাকার সবচেয়ে কাছে। দাউদকান্দি এলাকটি নিম্নাঞ্চল এলাকা। এটি ফিন্যান্সিয়াল বায়োভ্যালু। ওয়াটারবোর্ড ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। মেঘনা ধনতলার মতো আমরা যদি বেড়িবাধ দেই। দাউদকান্দিতে বেড়িবাধ। নদীভাঙ্গনসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে প্রায় ২হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। এই আসনটিকে বন্যা মুক্ত করবো। বেড়িবাধ নিমার্ণ করতে পারলে বর্ষাকালে এই অঞ্চলের কৃষকরা তিন ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। মিঠা পানির মাছ চাষ করতে পারে। মেঘনা ও দাউদকান্দিতে দুইটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলবো। মেঘনাকে পৌরসভা করবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে যে কমসূচি থাকবে তার মধ্যে গ্রামকে শহরের ন্যায়ে রুপান্তর করা। সেই লক্ষ্যে লোকজনর দাবি পূরণে এরই মধ্যে স্কুল, কলেজ নির্মাণ করা শুরু করেছি। পাশাপাশি আমাদের এলাকার ছেলেরা যাতে ঢাকা না হয়ে বাড়িতে বসে সবোচ্চ ডিগ্রি নিতে পারে এ জন্য একটি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক কলেজ করবো। দাউদকান্দি ও মেঘনাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করবো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ