প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সফর মাসকে অশুভ মনে করা কুসংস্কার

আমিন মুনশি : হিজরি বর্ষের দ্বিতীয় মাস সফর। সফর মানে হলো শূন্য, রিক্ত। মানুষ সাধারণত অবস্থার সঙ্গে সময়কে মূল্যায়ন করে। আরব দেশে সে সময় সফর মাসে খরা হতো এবং খাদ্যাভাব, আকাল ও মঙ্গা দেখা দিত। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে বিবর্ণ তামাটে হয়ে যেত। ক্ষুধার্ত মানুষের চেহারাগুলো রক্তশূন্য ও ফ্যাকাশে হয়ে যেত। তাই তারা অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে এই মাসের সঙ্গে একটি বিশেষণ যুক্ত করে বলত, ‘আস সাফারুল মুসাফফার’, অর্থাৎ ‘বিবর্ণ সফর মাস’। (লিসানুল আরব, ইবনু মানযুর র.)

জাহেল আরবরা এই মাসকে দুঃখের মাস মনে করত, এমনকি তারা এ মাসের চাঁদ দেখা থেকে পর্যন্ত বিরত থাকত এবং দ্রুত মাস শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করত। তবে ইসলামি আক্বিদা হলো, সময়ের সঙ্গে কোনো অকল্যাণ নেই; কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ভর করে মানুষের বিশ্বাস ও কর্মের ওপর। প্রতিটি দিন ও মাসই ফজিলতপূর্ণ। মানুষের জীবন হলো সময়েরই সমষ্টি। সফর মাসও জীবনেরই অংশবিশেষ, সুতরাং সফর মাসও ফজিলতময় ও বরকতপূর্ণ। অতএব আল্লাহ তায়ালার রহমত ও বরকত পেতে হলে এ মাসেও বেশি বেশি আমল করতে হবে। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত যথাযথভাবে আদায় করার পাশাপাশি নফল ইবাদতে মশগুল হতে হবে।

আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা-১০৩ আসর, আয়াত: ১-৩)। এই সুরার শুরুতে আল্লাহ তায়ালা সময়ের শপথ করেছেন; এতে বোঝা যাচ্ছে সময় আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদিস শরিফে আছে, আম্মাজান উম্মে সালমা (রা.) বলেন, একদা রাতে নবীজি (সা.) জাগ্রত হয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! এ চমৎকার সুন্দর রাত! এতে কত-না বিপদ আপতিত হয়; আর এতে কত-না রহমতের ধনভান্ডার খুলে দেওয়া হয়। (বুখারি, প্রথম খ-, হাদিস নম্বর ১১৬)

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো অশুভ-অযাত্রা নেই, কোনো ভূতপ্রেত বা অতৃপ্ত আত্মার অশুভ ক্ষমতা নেই এবং সফর মাসের অশুভ কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই।’ (বুখারি, পঞ্চম খ-, হাদিস নম্বর ২১৫১,২১৬১, ২১৭১ ও ২১৭৭)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ