প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থলোভে অস্ত্রোপচারেই ঝোঁক চিকিৎসকদের, বাড়ছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদান

উল্লাস মূর্তজা : সারা বিশ্বে ৮ বছরে সিজারের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে এই জন্মের হার ছিল ১২ শতাংশ এখন তা ২১ শতাংশে দাড়িয়েছে। চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী লাঞ্চেয়েট-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্মের হার আরো বেশী উদ্বেগজনক।

জাতীয় পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে নরমাল ডেলিভারি ৬২.১ শতাংশ। সিজারিয়ান সেকশন ৩৫.৫ শতাংশ এবং অন্যান্যভাবে ২.৫ শতাংশ। কিন্তু সিজারিয়ান সেকশনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সাভের্ – ২০১৪ (বিডিএইচএস) অনুসারে এ দেশে গত তিন বছরে ২৩ শতাংশ ডেলিভারি হয়েছে সিজারের মাধ্যমে। ওই সার্ভেতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৭ শতাংশ ডেলিভারি হয়ে থাকে হাসপাতালগুলোতে। যার ২২ শতাংশই হয়ে থাকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।

বিডিএইচএসের তথ্য অনুসারে, ২০০৪ সালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম হতো ৪ শতাংশ, ২০০৭ সালে এসে দাঁড়ায় ৯ শতাংশে, ২০১১ সালে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ শতাংশে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৫ শতাংশে।

দিন দিন সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা বেড়ে চলায় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলছেন, জীবন রক্ষার জন্যই অনেক সময় সিজার করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকগুলোতে শুধু অর্থের জন্যই স্বাভাবিক ডেলিভারির চেষ্টা না করে সিজারিয়ান পদ্ধতি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে যে সংখ্যক নবজাতক জন্ম হচ্ছে এর ৩৫ শতাংশই থাকে অপ্রয়োজনীয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বাণিজ্যিক মানসিকতার কারণেই সিজারের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার বাড়ছে। বড় বড় ক্লিনিক ও চিকিৎসকরা প্রসূতিকে চটজলদি সিজারিয়ান করার ব্যাপারে অত্যন্ত উৎসাহ দিয়ে থাকে। এতে দেশে অনেক শিশু আগে জন্ম নেয়। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেয়ায় এসব শিশু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জটিল রোগসহ নানা সমস্যায় ভোগে। সমাজ ও দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে হয়তো মায়ের কষ্ট কম হয়, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে একটি শিশু জন্ম দেওয়ার পরে একজন মায়ের যে আনন্দ হয় তা নিতান্তই প্রাকৃতিক, অনাবিল।’

বিডিএইচএস এর এক তথ্যানুযায়ী আরও বলা হয়, দেশে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ১০ টির মধ্যে ৬ টি শিশুরই জন্ম হচ্ছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে। এক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অস্ত্রোপচার হচ্ছে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। সমাজে সবচেয়ে শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারের ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে অস্ত্রোপচারে।

জাতীয় পর্যায়ের ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল প্রকাশিত এক জরিপে আরও জানানো হয়, গর্ভবতী মায়েদের একটি বাচ্চা প্রসবের মধ্যে ৫৩.৫ শতাংশ ছেলে শিশু। আর জমজ বাচ্চা প্রসবের মধ্যে ৫৯.৪ শতাংশ ছেলে শিশু। গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসব করার স্থানের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪.৫ শতাংশ, প্রাইভেট হাসপাতালে ২৭.২ শতাংশ, এনজিও হাসপাতালে ৪.৪ দশমিক ৫ শতাংশ, হোম ডেলিভারি ৪২.৪২ শতাংশ এবং অন্যান্য স্থানে ১.৫ শতাংশ ডেলিভারি হয়।

২০১৫ সালে প্রকাশিত হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান জন্মদান প্রায় ৮ গুণ বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০১৩ সালে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭২১ জন প্রসূতি মা ভর্তি হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ১৬৪ জন শিশু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয়। কিন্তু এদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারি করা যেত। সূত্র : বিডিএইচএস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত