প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেডফোন ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ: ডা. কামরুল হাসান

জুয়েল খান : কানে হেডফোন গুঁজে গান শোনা কিংবা কথা বলা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কানে হেডফোন দিয়ে গান শোনাকে ফ্যাশনে পরিণত করেছে। ফ্যাশন, অভ্যাস কিংবা প্রয়োজন যাই বলি না কেন, অতিমাত্রায় হেডফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের শ্রবণশক্তি চিরতরে হারাতে পারে এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের, নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার আমাদের সময়.কমকে বলেন, কানে হেডফোন দিয়ে উচ্চমাত্রার শব্দ শুনলে শ্রবণ শক্তি চিরতরে হারাতে পারে। কেননা বাইরে যখন কোনো শব্দ হয় সেই শব্দ বাতাসের মাধ্যমে ২০ মিলি সেকেন্ড পরে সহনীয় মাত্রায় আমাদের কানে প্রবেশ করে। কিন্তু আমরা যখন হেডফোন ব্যবহার করি তখন শব্দটা ২০ মিলি সেকেন্ডের আগেই আমাদের কানে এসে পৌঁছায় আর এই শব্দটা যদি ৯৫ ডেসিবেলের বেশি হয় সেক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি হেডফোনে ৯৫ ডেসিবেল শব্দ ৪ ঘন্টা শুনি তাহলে শ্রবনশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১০০ ডেসিবেল শব্দ ২ ঘন্টা শুনি তাহলে কানে দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব পরবে। ১০৫ ডেসিবেল শব্দ ১ ঘন্টা শুনি তাহলে কান নষ্ট হয়ে যাবে। ১১০ ডেসিবেল শব্দ ৩০ মিনিট শুনি তাহলে কান নষ্ট হয়ে যাবে। আর এর থেকে উচ্চমাত্রায় গান শুনলে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাবে।

হেডফোন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

কানে ব্যথা : অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানে ব্যথা হয়। মাঝে মাঝে কানের ভেতর ভোঁ-ভোঁ আওয়াজ হয়ে থাকে।

কানে বাতাস প্রবেশে বাধা : আধুনিক কিছু হেডফোনে খুবই চমৎকার শব্দ পাওয়া যায় তবে স্বাস্থ ঝুঁকিও আছে। এসব হেডফোন এয়ারক্যানেল পর্যন্ত প্রবেশ করানো হয়। ফলে কানে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। এতে কানের সংক্রমণ হতে পারে ।

কানে ইনফেকশন : একটি হেডফোন একজনই ব্যবহার করা উচিত। একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে কানে ইনফেকশন হতে পারে। এতে একজনের কানের জীবানু অন্যজনের কানে প্রবেশ করতে পারে।

কানে জড়তা : কিছু সমীক্ষা থেকে জানা যায়, যারা হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে গান শোনেন তাদের কানে জড়তা চলে আসে, যা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।

সাময়িক বধীরত্ব : এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা উচ্চ মাত্রায় গান শোনেন তারা হেডফোন খোলার পরও অনেকক্ষণ ভাল ভাবে কানে শোনেন না।

প্রতিকার :

ভলিউম কমিয়ে গান শুনুন, বড় ধরনের হেডফোন ব্যবহার করুন। যেগুলোতে ফোম লাগানো থাকে এবং পুরো কান ঢাকা পড়ে। বাজারে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনও পাওয়া যায় যা চারপাশের শব্দ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেবে।

খাবারে সচেতনতা : কম ভলিউমে গান শুনলে শ্রবণশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। তবে কিছু খাবার আছে যা আপনাকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে যেমন- কমলা, লেবু, ক্যাপসিকাম, কাঁচা মরিচ এবং ব্রকোলির মতো সবজি। এসব সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেশিয়াম যা আপনার শ্রবণ শক্তিকে আরও প্রখর করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ