প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উৎসবের জোয়ারে শারদীয় দূর্গা পূজা

ডেস্ক রিপোর্ট: মা দূর্গা মূলত শাক্তসম্প্রদায়ের আরাধ্য। এখানে ‘শক্তিবাদের’ আধারে সেই পরম এক ঈশ্বরকে “নারীশক্তি” রূপে কল্পনা করা হয়েছে। সেই পরম ঈশ্বরের নারীশক্তি রূপ হল “মা দূর্গা”। আর এই মা দূর্গা বহু তাৎপর্য আছে। তিনি মাতৃরূপী, তিনি শক্তিরূপী, তিনি বুদ্ধিরূপি, তিনি দূর্গতিনাশিনী, তিনি সর্বভূতে বিরাজমান, তিনি নবদূর্গা, তিনি নারী শক্তির কারক প্রভৃতি। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু সমাজে এইসব সম্প্রদায় প্রথা উঠে গেছে। তাই সকল সম্প্রদায়ই এখন দূর্গাপূজা করে। দুর্গা পুজোর কটা দিন তাঁরা ভেসে যায় প্রাণের উৎসবে।

মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, অভাব-অনটন, রোগ-শোক, সামাজিক নানা অনাচার দূরীকরণে পূজা অর্চনা শতভাগ সফল প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু চলমান জীবনযুদ্ধ ব্যস্ততার ডামাডোলে খানিকটা রেশ টেনে বাঙ্গালী হিন্দু সমাজকে দূর্গাপূজায় প্রবাহিত হয় কিছুটা স্বস্তির হাওয়া। জড়িয়ে রাখে আনন্দঘন অনাবিল উৎসবের আমেজ। তৈরী করে ক্ষণস্থায়ী মানব মিলনের অপূর্ব ক্ষেত্র, ব্যস্ততা বাড়ে উচ্চকূল দাবিদার ব্রাহ্মণদের। তরুণ-তরুণীরা ঘুরে বেড়ায় রঙ্গিন সাজে। বাঙ্গালি হিন্দু সমাজে নিয়ে আসে করে প্রাণ চাঞ্চল্য। বাঙ্গালি জনগোষ্ঠির সৃষ্ট এই দূর্গাপূজা উৎসবের জোয়ারে স্বাভাবিকভাবে সীমিত থেকে যায় বিশেষ করে বাঙ্গালি হিন্দু জনগোষ্ঠির সংস্কৃতির মাঝেই।

১৯২৬ সালে বাগবাজারে দুর্গাপূজা সার্বজনীন নামে অভিহিত হয়। এই পূজাই আগে ছিল বারোয়ারী। সূচনা ১৯১৮ বা ১৯১৯ সালে। স্থানীয় কিছু যুবক এক ধন্যাড্ডের বাড়িতে দুর্গাঠাকুর দেখতে গিয়ে অপমানিত হয়। ঠিক পরের বছর ওই যুবকরাই বারোয়ারী পূজা চালু করে। সবার জন্য তারা উন্মুক্ত করে দেয়া হয় পূজামন্ডপের দ্বার। এই পূজার উদ্যোক্তা ছিলেন রামকালী মুখার্জি, দীনেন চ্যাটার্জি, নীলমণি ঘোষ, বটুকবিহারী চ্যাটার্জি প্রমুখ। সঠিক অর্থে এই পূজাই কলকাতা তথা তৎ্কালীন ভারতবর্ষের প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপূজা। আর প্রথম সার্বজনীন পূজায় বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন অনেক রক্ষণশীল পন্ডিত। শেষ পর্যন্ত তারা সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। পন্ডিত দীননাথ ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপে। এখন সার্বজনীন দুর্গাপূজার ছড়াছড়ি। এই পূজারই রমরমা। বাড়ির পূজা আজ স্তিমিত।

আগে পূজায় তেমন জাঁকজমক হতো না। তাই ছুটিরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রথম দুর্গাপূজায় ছুটির উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৮৭ সালে। কলকাতার পূজার বাজারকে গ্রামের মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ১৯২৭ সালে পূর্ববঙ্গ রেলওয়ে (ই. বি. রেলওয়ে) কর্তৃপক্ষ পূজার আগে ‘পূজা বাজার স্পেশাল’ নামে তিন কামরার একটি ট্রেন প্রায় মাস খানেক ধরে বিভিন্ন স্টেশনে চালিয়েছিল। গ্রামের মানুষদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে মোট ১৬টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওই ট্রেনে পশরা সাজিয়ে যোগ দিয়েছিল। এখন বাংলাদেশে দুর্গোৎসবের চেহারাই আলাদা। রাজধানীসহ সব জেলা শহরের মার্কেটগুলোতে পূজার বাজার গড়ে উঠেছে। বেচা-বিক্রিও কম নয়। বাংলাদেশের সব কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী নানারকম অনুষ্ঠানের প্রচলন ঘটেছে। পূজার রান্নাবান্না নিয়েও চমকপ্রদ অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ