প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গামছা মাথায় দিয়ে গান করলেই লোকসংগীত হয় না : শফিউল আলম

জুয়েল খান : ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী শফিউল আলম রাজা বলেন, পাশ্চাত্য সংগীতের আগ্রাসন আর লোকসংগীতকে ভুলভাবে উপস্থাপনের ফলে তরুণ প্রজন্ম আমাদের বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

শুত্রবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে লোকসংগীতের অনুষ্ঠান। শহর ও গ্রাম থেকে আসা লোকসংগীত শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিতে মিশে আছে হাজার বছরের গল্প, পংক্তি, আবেগ, ভালোবাসা কিংবা বিরহের অসংখ্য ইতিহাস। ইতিহাসের এই অংশগুলোই লোকগীতি, লোকগল্প কিংবা অনুগল্প হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গ্রামবাংলার আবহমান প্রকৃতিতে, যা উঠে আসে লোকসংগীতে মাধ্যমে। বাংলাদেশের লোকসংগীত নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন তিনি বলেন, মিডিয়াতে সেভাবে লোকসংগীতকে উপস্থাপন করা হয় না যার ফলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই সংগীত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ।

তিনি জানান, গামছা মাথায় দিয়ে গান করলেই কিন্তু লোকসংগীত বলা যায় না। লোকসংগীত মানুষের হৃদয়কে, আত্মাকে একদম প্রশমিত করে উত্তাল করে ফেলবে। বর্তমান উন্নত বিশ্বে ইন্টারনেটের যুগে আমাদের তরুণ প্রজন্ম পাশ্চাত্যের কালচার অনেকটা না বুঝেই অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। এই অনুকরণের ফলে আমাদের নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে ফিউশন তৈরি করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তারা ফিউশন করতে গিয়ে কনফিউশন তৈরি করছে। আর এর জন্য আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো লোকসংগীতকে সেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না ।

তিনি আরও বলেন, দেশে যেমন নদী বাঁচাও আন্দোলন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন হয় তেমনি আমাদেরকে লোকসংগীত বাঁচাও আন্দোলন করতে হবে। কেননা একটা দেশের ঐতিজ্য,সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেলে সেই জতি সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। আমাদের দেশের লোকসংগীতের যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটা শুধু মাত্র লোকসংগীত শিল্পীরা দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছে। লোকসংগীতকে বাঁচাতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সাথে আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোকে দায়িক্তশীল ভূমিকা পালন করে লোকসংগীতকে এগিয়ে নিতে হবে।