প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতি এখন হাই-স্টেক ব্যবসা!

দেবদুলাল মুন্না : একসময় দেখা যেত প্রায় সব দলই ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনীতির মাঠে বেশি মর্যাদা। তৃণমূলে যার যতো বেশি গ্রহণযোগ্যতা তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করে নেতার পর্যায়ে আসতেন। কর্মীরাও তাদের সমর্থন দিতেন। কিন্তু এখন উল্টোচিত্র অনেক ক্ষেত্রেই। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি এক অনুষ্ঠানে রাজনীতিতে অবসরপ্রাপ্ত সচিব, সেনা কর্মকর্তা ডাক্তার, প্রকৌশলী, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদসহ প্রায় সব ফ্যাকাল্টির-ই উচ্চপদস্থ মানুষজন যে রাজনীতি করতে চান সেই বিষয়ে খেদ প্রকাশ করেছেন। এটি এখন বাস্তবচিত্র। দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই কিন্তু শিল্পপতি বা ‘বিশেষ কেউ’ হওয়ার কারণে দলীয় বড় নেতাও হচ্ছেন এবং নির্বাচনে মনোনয়নও পাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, রাজনীতি করাটা যেন এখন হাই-স্টেক ব্যবসা।

এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, পরিস্থিতি এখন এমনই। সারা জীবন মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করেছি। মিছিল করেছি। পোস্টার লাগিয়েছি। মাইক বাজিয়েছি। একসময় এলাকার মানুষের সমর্থনে এমপি হয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতা ও যোগাযোগ থাকলে হুট করেই রাজনীতিতে এসে মন্ত্রীও হওয়া যায়। মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করা লাগে না। ফলে রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, ‘গরিবের বউ সবার ভাবী’ এটি ঠিক কথাই বলেছেন। যারা অবসরপ্রাপ্ত ব্যুরোক্রেট তারা রাজনীতিতে এসে এমপি, মন্ত্রী হচ্ছেন। সব দলেই এমন হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাফিল আলম বলেন, রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নিয়ন্ত্রিত হয় না। সামরিক, বেসামরিক আমলারাই, বড় কর্তাব্যক্তিরাই চালান। তারা যখন চাকরি থেকে অবসরে যান তখন রাজনীতিতে অগ্রাধিকার পান। আবার যখন চাকরি করেন তখন গোপনে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করেন বলে প্রশাসনও আর নিরপেক্ষ থাকছে না। এদিকে বড় বড় শিল্পপতিরাও রাজনীতিতে ঝুঁকছেন। এখন আমার সংসদীয় আসনে যদি ১০০ কোটি টাকার মালিক কোনো শিল্পপতি নির্বাচনে প্রার্থী হন তখন আমার তো অন্তত ৫০ লাখ টাকা হলেও থাকতে হবে। তাই না ? ফলে রাজনীতি করতে হলে টাকা থাকতে হবে এমন নির্মম অপরিহার্যতাও তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক এক বিশ্লেষক বলেন, এখন আর রাজনীতি ত্যাগের নয়। এখন রাজনীতি ভোগের। এখন জনগণের সেবার জন্য রাজনীতি নয়। এখন রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে ।

জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ক্যারিয়ার ব্যুরোক্রেট এবং সফল শিল্পপতিদের রাজনীতিতে যোগ দেয়া পশ্চিমা বিশ্বে খুবই সাধারণ ঘটনা এবং সেইসব দেশে এটাকে যথেষ্ট ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। সেনাপ্রধান আইজেনহাওয়ার কিংবা গোয়েন্দা বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা ভ্লাদিমির পুতিন রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঈর্ষণীয় সাফল্যের অধিকারী। জীবনের শুরু থেকেই রাজনীতিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়া রাজনীতিবিদদের মধ্যে যেমন ভালো-মন্দ আছে, তেমনি ব্যুরোক্রেট বা শিল্পপতি থেকে রাজনীতিতে যোগ দেয়া রাজনীতিবিদদের মধ্যেও ভালো-মন্দ আছে। রাজনীতিটা কোন দেশে হচ্ছে এবং সেই দেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা কেমন তার উপর বিষয়টা নির্ভর করে।

বাংলাদেশে আজকে যারা তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনীতিবিদ হয়েছেন, ১৯৯০ সালে তাদের আয়কর রিটার্ন আর গত বছরে তাদের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন, কতজন এই সময়ে কত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কত টাকার মালিক হয়েছেন। কাজেই কে কোথা থেকে রাজনীতিতে এলেন সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না, আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে- রাজনীতিটা উনারা কতটা সততা ও সঠিকভাবে করছেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ