প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ ডিম দিবস: এবার পাবেন বিনামূল্যে সিদ্ধ ডিম

জান্নাতুল ফেরদৌসী: আজ (১২ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন, সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়তে ডিম দিবস পালিত হয়ে থাকে। ডিম দিবস উপলক্ষে এবার বিনামূল্যে সিদ্ধ ডিম দেবে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব, কারওয়ান বাজার, মিরপুর এবং রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় এই ডিম বিতরণ করা হবে। এই সাথে বিভিন্ন শিশু সদন ও এতিমখানা এবং বৃদ্ধাশ্রমের সদস্যদের জন্যও বিনামূল্যে ডিম দেওয়া হবে।

দিবসটি যৌথভাবে উদযাপন করছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে সকাল ১০টায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এছাড়া, বিভাগীয় শহরেও আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা। বিতরণ করা হবে সিদ্ধ ডিম।

গত বছর এই দিবসে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সামনে ৩ টাকায় ডিম বিক্রি করা হয়েছিলো। সেসময় ডিম না পেয়ে অনেকে হট্টগোল করে। পরে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

ডিমে রয়েছে নানা উপকারিতা।

১. একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে কোনো ভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

২. ডিমে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, লুটিন এবং জিয়েক্সসেনথিন নামে বেশ কিছু উপকারি উপাদান দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ছানি হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।

৩. দিন শুরুর জন্য প্রয়োজন শক্তি। সকালে একটা ডিম সেদ্ধ খেয়ে নিতে হবে। তাহলেই দেখবেন ক্লান্তি তো দূর হবেই, সেই সঙ্গে কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আসলে ডিমে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান নিমেষে দেহের প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করে। ফলে শরীর হয়ে উঠে চাঙ্গা।

৪. প্রতিদিন একটা করে ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে প্রোটিন এবং ভিটামিনের চাহিদা তো মেটেই, সেই সঙ্গে ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্কের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

৫. সকালের নাস্তায় দুটো ডিমের অমলেট বা পোচ খেয়ে দেখুন তো কী হয়! দেখবেন দুপুরের আগে ক্ষিদে পাওয়ার নামই নেবে না।

৬. ডিমে উপস্থিত অ্যালবুমিন নামে এক ধরনের প্রোটিন পেশির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও সকাল সকাল ডিম খাওয়াটা জরুরি।

৭. বুদ্ধির জোর বাড়াতে কে না চায়! আপনিও যদি সেই দলে থাকেন, তাহলে রোজ সকালে ডিম খাওয়া শুরু করুন। আসলে ডিমে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান মস্তিষ্কের ক্ষমতা মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে একদিকে যেমন বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, তেমনি স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বৃদ্ধি পায়।

৮. অনেকেই মনে করেন ডিম খেলে ওজন। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ডিম খেলে ওজন তো বাড়েই না বরং কমে! পেনিংটন বায়োমেডিকাল রিসার্চ সেন্টারের করা এক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে সকাল সকাল ডিম খেলে দিনের অনেকটা সময় পর্যন্ত ক্ষিদে পায় না। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি জমার সম্ভাবনাও কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকবাবেই ওজন কমতে শুরু করে। সূত্র: বাংলা উইকিপিডিয়া, যমুনা টেলিভিশন, আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ