প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

লীনা পারভীন : ১. আমরা সবাই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলান মামলার রায় নিয়ে নানা মত দিচ্ছি কোন সমস্যা নেই কিন্তু তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়া নিয়ে যত ব্যাখ্যা আসছে সেখানে মনে হয় আমরা একটা বিষয় ভুলে যাচ্ছি যে রায়টা আদালত দিয়েছে সেখানে কোন বিবেচনা কাজ করেছে সেটা একমাত্র আদালত আর আইন ও রায় বলতে পারবে। তাই কোন দেশে মৃত্যুদ- স্বীকৃত বা স্বীকৃত নয় আর ফাঁসির আসামীকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি যাবে না সে বিবেচনা আদালতের থাকার কথা নয়। রায় হয় মামলার সাক্ষী, দলিল, দস্তাবেজের ওপর। সরকার বা মানুষ কী চাইলো তার ওপর নয়। তাই ঠাট্টা বা সিরিয়াস কোনভাবেই এমন ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করা উচিত নয় যেখানে রায়ের উপর প্রভাব নিয়ে কথা আসতে পারে?

২. নারায়ণগঞ্জের সাত খুন বা একুশে আগস্টের মামলার রায় দুটি আমার চোখে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কারণের মাঝেও একটি হচ্ছে রাষ্ট্রশক্তি বা সরকার তার রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে চরিতার্থ করতে চেয়েছে যা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রে গর্হিত অপরাধ হওয়া উচিত। বিশেষায়িত বাহিনী থাকে রাষ্ট্রের সকলের জন্য যেখানে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে তারা কাজ করে, উইপন হিসেবে নয়। কোন বাহিনীকেই তাই যেমন কোন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিতর্কিত করতে পারে না, তেমনি সরকারও পারে না। এর বিরুদ্ধে সবারই সোচ্চার থাকা জরুরি।

৩. সরকারি ক্ষমতায় থাকলেই যে কেউ যা ইচ্ছা করার লাইসেন্স পেয়ে যায় না। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী। তাই সমাজের আর দশজন সাধারণ মানুষের যেমন অপরাধের বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং উর্দ্ধে নয় তেমনি ক্ষমতায় বা তার আশেপাশে থাকা কেউই আইনের উর্দ্ধে নয়। একটি সভ্য ও স্বাধীন রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের অপরাধের বিচার হওয়া অসুখ হলে চিকিৎসা করার মতই জরুরি।

৪. রাজনৈতিক মতদ্বৈদতা আর হত্যা করে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেয়ার মানসিকতা এক নয়। রাজনীতির মাঠে খেলতে হবে সমানে সমান হয়ে। ক্ষমতায় আছেন বলেই আপনি সেটাকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইবেন সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। প্রতিক্ষণে দমন করতে হবে রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমেই। অন্যকোন উপায়ে নয়।

এই দেশ, এই রাষ্ট্র ন্যায়বিচার যা পেয়েছে তার সবটাই আওয়ামী লীগের হাত ধরেই পেয়েছে। অনেকেই দ্বিমত করবেন, আমাকে দালাল বলবেন কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে একজন মুজিব না থাকলে একাত্তরে বাংলাদেশ হতো না, আর একজন শেখ হাসিনা না থাকলে জাতির পিতার খুনীদের বিচার করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসনে দুয়ার খোলা যেতনা যার ধারাবাহিকতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন এবং একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার। আমরা চাই এভাবেই সকল অন্যায় ও অবিচারের বিচারের সংস্কৃতি ফিরে আসুক যাতে করে আর কোন অপরাধী বাংলাদেশের মাটিতে বুক ফুলিয়ে বিচরণ করতে না পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত