প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় ঐক্য, তরুণ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী আবহাওয়া

রিয়াজুল হক : একাদশ নির্বাচন আসন্ন। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি প্রস্তুতি নিচ্ছে। দাবি-দাওয়া প্রকাশ করছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনি জোট-মহাজোট, জাতীয় ঐক্য নির্বাচনি রাজনীতি এখন সরব। সবকিছুর সারকথা রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এই চাওয়া স্বাভাবিক। কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু এই গণতন্ত্র কার জন্য? তিনশত আসনে নির্বাচিত সদস্য ও তাদের শুভাকাঙ্খী কিছু লোকের জন্য, নাকি দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য?

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কেমন হয়েছিল, কতটুকু সঠিক হয়েছিল তা পর্যালোচনা মূল বিষয় নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে সকল আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি, তা বাদই দিলাম। আর সেসব আসনে নির্বাচন হয়েছে তাতে জনগণের অংশগ্রহণ কতটুকু ছিল, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার মতে, সেই নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করেনি, আবার বর্জনও করেনি! কীভাবে? সেই নির্বাচনে জনগণের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয়নি। রাজনীতির ক্ষতি হয়েছে। জনগণ যদি সত্যিই সেই নির্বাচন বর্জন করতো তো সরকার কোনোভাবেই ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করার পথে থাকত না। সাধারণ মানুষ যদি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় তাহলে সরকার ও নির্বাচনকে বলতে হবে। জনগণই পারে সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকার ও ইসিকে সহযোগিতা করতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে। কেননা, অনেক সময় নির্বাচন কমিশন চাপে থাকে। সেক্ষেত্রে জনগণ এগিয়ে এলে, সহযোগিতা করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সহায়ক ভূমিকা রাখে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ যদি আসে কখনো তা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।

গণতন্ত্র নিয়ে নানা মত রয়েছে। বিতর্ক আছে। কার স্বার্থে গণতন্ত্র, কেন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছিল মানুষ? সব উত্তর সব সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু কিছু মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসেই মানুষের মনে। তাদের একটা জিজ্ঞাসা প্রায় শোনা যায় এমপি ইলেকশনে সরাসরি তিনশজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তারা কার প্রতিনিধিত্ব করেন? সংবিধান বলে, জনগণের। জনগণ কি সত্যিই তার প্রতিনিধিকে পায় সঠিক সময়ে? এ নিয়েও বহু প্রশ্ন মানুষের মধ্যে। কিন্তু উত্তর কি দেন কেউ?

নির্বাচন নিয়ে এ দেশের মানুষের অনেক উৎসাহ থাকে। নির্বাচন এলে তারা সময়টাকে খুব উৎসাহ-উদ্দীপনায় কাটায়। কিন্তু উদ্দীপনাটা সবসময় থাকে না। কারণ প্রত্যাশার জায়গা অনেক সময়ই পূরণ হয় না। অর্থপূর্ণ নির্বাচনটা সবসময় দেখে না। মানুষ আসলে কী চায়? একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ভালো একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল নিশ্চিত হয়। অর্থবহ নির্বাচন পেতে কী করতে হবে? আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র হতে হবে। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যে ঐক্যে কোনো শর্ত থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় থাকতে হবে।

তরুণ রাজনীতিবিদেরা চান আমাদের রাজনীতির পুরোনো সংস্কৃতি বদলে দিতে। প্রবীণরা তাদের অভিভাবক হবেন, তাদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় মহা-ঐক্য গড়ে তরুণদের হাতে তুলে দিন। এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগান। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তরুণ নেতৃত্ব জাতিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

লেখক : সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত