প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেনেড হামলার রায় বিএনপি’র শুদ্ধ হওয়ার শেষ সুযোগ

মাসুদা ভাট্টি : বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে জন্ম নিলেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দলটির স্রষ্টা জেনারেল জিয়াউর রহমানের নাম জড়িত। আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকেই আমরা সেই সত্য জানি। ২১শে আগস্টের হত্যাযজ্ঞের বিচারে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন তারেক রহমানকে, এই হত্যাকাণ্ডের একজন ‘মাস্টার মাইন্ড’ হিসেবে। অপরদিকে বেগম জিয়াও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। জিয়া পরিবারের মুখ্য সদস্যরাই এখন দেশের প্রচলিত আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত। এমতাবস্থায় বিএনপি’র মতো একটি ভোটসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে তারা থাকলে ভোটারদের মাঝে তার কী প্রভাব পড়বে কিংবা দলটির বিভিন্ন বিদেশি বন্ধুদের কাছেই বা কতোটুকু গ্রহণযোগ্য থাকবে দলটি; সে প্রশ্ন এরই মধ্যে উঠতে শুরু করেছে। এমনিতেই যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এবং জামায়াতের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসিয়ে বিএনপি’কে তার মূল্য দিতে হয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে। শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, এই মুহূর্তে চলমান কথিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপি’র অন্তর্ভূক্তির পথে জামায়াত ইস্যুটি একটি বিশাল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হওয়ার পর এই ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা হিসেবে একজন দণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির থাকা হিসেবেও যে প্রশ্ন উঠবে তাতো অস্বীকার করার উপায় নেই।

এমতাবস্থায় বিএনপি কি জিয়া পরিবারকে বাদ দিয়ে কিংবা জিয়া পরিবারের দণ্ডিত সদস্যদের বাদ দিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকবে? নাকি এভাবে বিতর্কিত থেকেই, কোনো সমালোচনাকেই পাত্তা না দিয়ে আগের মতো ‘গোয়ার্তুমি’র রাজনীতিই বজায় রাখতে চাইবে এই মুহূর্তে সেটাই হচ্ছে মূল আলোচনা। রায় ঘোষিত হওয়ার পর পরই বিএনপি’র পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা সরকারের ফরমায়েশি রায় এবং বিএনপি এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করেই অনুষ্ঠান শেষ করেন কিন্তু বিএনপি কার্যালয়ের স্থায়ী বাসিন্দা রুহুল কবির রিজভি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে না হতেই আরেকটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাত দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। রায়কে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে রাজপথে বিএনপি’র প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দু’একটি বিচ্ছিন্ন কিন্তু সহিংসতার ভেতর দিয়ে শেষ হয়েছে। এই সহিংসতা অর্থাৎ পেট্রোল বোমার সঙ্গে দেশের মানুষ পরিচিত ও বাংলাদেশের মানুষ এটাকে গ্রহণ করেনি। অদূর ভবিষ্যতে এই আগুন-সন্ত্রাসের বিচারেও বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব বেগম জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলেও আশ্চর্য হবো না। এমতাবস্থায় দেশের মানুষের বার্তাটি বিএনপি’র কাছে স্পষ্ট না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট। মানুষ মূলতঃ এ বার্তাটিই দিয়েছে যে, ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে সমর্থন করলেও বিএনপি’র চরম অরাজনৈতিক, সহিংস ও প্রতিহিংসার রাজনীতির সঙ্গে তারা নেই। এদেশের মানুষ অবশ্য কোনো দলেরই সহিংস রাজনীতির সঙ্গে নেই, যেমন ছিল না জামায়াত-শিবিরের রগকাটা রাজনীতির সঙ্গে তেমনই ছিল না আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার আন্দোলনেও।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিএনপি’র বর্তমান নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে হওয়া স্থায়ী ক্ষতের বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। নিলে রায় ঘোষিত হওয়ার পর তারা তারেক রহমানকে এই রায়ে সাজা দেওয়ার বিরুদ্ধে টেলিভিশন টকশো’তে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের পক্ষে সাফাই না গেয়ে সোজা জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার কাজটি করতেন। কিন্তু তারা ২১ আগস্টকে নিয়ে হাস্যকর সব প্রশ্ন নিয়ে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা এবং সর্বোপরি মানুষের চিন্তা-ভাবনা যে আর নব্বই কিংবা আশির দশকে নেই, সেটা বোঝার ক্ষমতাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ বিএনপি’তে নেই সেটা বিশ্বাস করতে সত্যিই কষ্ট হয়। কিন্তু কষ্ট হলেও ঘটনাটি সেরকমই ঘটছে। এই রায় যে বিএনপি’কে শুদ্ধ করার একটি সুযোগ এবং সুযোগটি যে বিএনপি’র গ্রহণ করা উচিত; তা পাগল ও শিশুসহ সকলেই বোঝে, বুঝতে চাইছে না কেবল বিএনপি। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত