প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মহত্যা ছাড়া পথ নেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের!

ফাইল ফটো

আরিফুর রহমান তুহিন : প্রতিবন্ধীরা আজ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছে। যারা অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না তাদেরকে রাস্তায় নামা জাতির জন্য লজ্জার। তাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। শুক্রবার থেকে রাস্তায় নামার পরেও এখনো তাদের দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় তাদের হাতে একটাই উপায় রয়েছে। আর সেটা হলো আত্মহত্যার মাধ্যমে অধিকার আদায় করা।

এভাবেই আবেগতাড়িত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আলি হোসেন। কথাগুলো বলার সময় তার সাথে থাকা অন্য প্রতিবন্ধীরাও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবন্ধীদের কোটা পুণর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালনের সময় তিনি এই প্রতিবেদককে এসব বলেন।

আলি হোসেন বলেন, একজন প্রতিবন্ধী যখন তার অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে তখন সেটা সরকার ও জাতির জন্য লজ্জার বিষয় হয়ে দাড়ায়। আর একজন অসহায় প্রতিবন্ধী হয়ে তারা অন্যের সম্মান নষ্ট করতে চায়নি। কিন্তু তাদেরকেতো বাঁচতে হবে। যখন কেউ তাদের দিকে তাকায়নি তখন তারা রাস্তায় নেমেছেন। এটা যেমন তাদের জন্য কষ্টের জাতির জন্যও লজ্জাজনক বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী কখনো একজন স্বাভাবিক মানুষের সমকক্ষ হতে পারে না। তার পরেও এতদিন তারা সকল পরীক্ষায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা প্রশ্নে চাকরি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের জন্য একমাত্র অবলম্বন ছিল কোটা। কিন্তু সম্প্রতি তাদের সেই কোটাও বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একবার সংসদে তাদের কথা বললেও আর কখনোই এ বিষয়ে কেউ কথা বলেনি। এখন তারা দিশেহারা।

প্রতিবন্ধীদের এই নেতা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যখন কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তখন অন্য কোটাধারিরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করলেও প্রতিবন্ধীরা সেটা করেননি। তাদের বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী বাস্তবতার আলোকে সংসদে করা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সময় যত এগিয়ে যায় তাদের আশাও ভেস্তে যায়। একজন অন্ধ বা প্রতিবন্ধীর জন্য ইচ্ছে করলেই রাস্তায় নামতে পারে না। তাই তারা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্বারকলিপি প্রদাণ করেছেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই শুক্রবার থেকে তারা বিক্ষোভ করে আসছেন। অথচ কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী ছাত্র আলফাজ উদ্দিন জানান, তারা কখনোই ভাবেননি জাতির জনকের কন্যার শাসনামলে অধিকার আদায়ের জন্য একজন অন্ধ মেয়েকে রাস্তায় নামতে হবে। তিনি তাদের অধিকারকে কেড়ে নিবেন। কিন্তু আজ এই রাতের আধারে তাকেও রাস্তায় নামতে হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শ্লোগান দিতে হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছেন। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের কথা বিবেচনা করে স্বারকলিপি প্রদাণ ও বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কেউ তাদের অসহায়ত্বের কথা ভাবেনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখানে অবস্থান নেওয়ার। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত সবাই এখানে থাকবে। যদি সরকার তাদের কথা না শোনে। তাদের আর্তনাদ বুঝতে সক্ষম না হয় তাহলে অনশনে যাবেন। প্রয়োজনে জীবন দিবেন। কিন্তু তারা অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবেন।

দেশের সকল মানুষের ভালবাসা তাদের সাথে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে অবস্থানের কারণে জনসাধারণের চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু তাদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে আন্দোলন চলাকালীন সময় পর্যন্ত ‘এই’ কষ্টটুকু সহ্য করার অনুরোধ করেছেন।

জনসাধারণের কাছে এই সমস্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা এ দেশেরই কারো না কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো বোন। হয়তো আপনিও প্রতিবন্ধী হতে পারতেন। তাই নিজের স্থান থেকে আমাদের কথা বিবেচনা করে আমাদের অধিকার আদয়ে সহযোগিতা করুন। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি ন্যায্য আন্দোলনকে সফল করতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রতিবন্ধী জানান, তিনি শুনেছেন সরকারের এক সচিব নাকি বলেছেন দেশে কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষিত নেই। ওই সচিবকে  শাহবাগে এসে কেবল অন্ধ গ্রাজুয়েট কতজন আছে তা গুণে যাওয়ার আহ্বান করেন তিনি।

ওই প্রতিবন্ধী আরো বলেন, সরকারি চাকরিতে একজন প্রতিবন্ধীকে অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে হয়। অথচ বাস্তবতায় তাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। এজন্য অনেকেই প্রতিযোগীতায় মেধা তালিকায় আসতে পারে না। কিন্তু তাদের অক্ষমতার কথা বিবেচনা করে আলাদাভাবে পরীক্ষা নেওয়াই ছিলো মানবিকতা। সেখানে এখন কোটাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এটাকে তিনি গলা টিপে হত্যার শামিল উল্লেখ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ