প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অ্যামাজনের চাকরিতে নিয়োগদাতা এআই সফটওয়্যার নারীদের প্রতি বৈষম্য করেছিল

নূর মাজিদ : নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যোগ্য কর্মী নিয়োগে একটি বিশেষ ধরণের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাস¤পন্ন (এআই) চাকরিতে নিয়োগদাতা সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করেছিল অ্যামাজন। অনলাইনে আসা হাজার হাজার চাকরির আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতেই এমন সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করে অ্যামাজন। কিন্তু, কিছুদিন পরেই অ্যামাজনের ক¤িপউটার প্রকৌশলীরা আবিষ্কার করেন তাদের তৈরি এআই প্রযুক্তি মানুষের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্য করছে।

বিশেষ করে, নারীদের নিয়োগদানের ক্ষেত্রে মোটেও প্রাধান্য দিতোনা অ্যামাজনের তৈরি সফটওয়্যার। এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ২০১৭ সালে এই এআই সফটওয়ারের উন্নয়ন ও গবেষণা বন্ধ করে দেয় অ্যামাজন। গতকাল মঙ্গলবার অ্যামাজনের কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

রয়টার্স জানায়, ২০১৪ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরিতে নিয়োগদানের ক্ষমতাস¤পন্ন এআই প্রযুক্তি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় অ্যামাজন। এই লক্ষ্যে তারা ৫শ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের সমান অনুসন্ধান চালাতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হন। যা ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে চাকরি প্রার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারবে। প্রতি ১০০টি চাকরির আবেদনপত্র থেকে অন্তত ৫টি শীর্ষ আবেদন বেছে নেয়াই ছিল এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তবে প্রকল্প শুর হওয়ার একবছর পরেই অ্যামাজনের প্রকৌশলীরা এআই ব্যবস্থাটির নারী-বিদ্বেষী অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন। এসময় তারা সফটওয়্যার এলগরিদমে পরিবর্তন আনারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও ইতিবাচক সফলতা আসেনি। এমনকি এই সফটওয়্যার শুধুমাত্র মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে এমন দুই নারী প্রার্থীকে চাকরির জন্য যোগ্য হিসেবে নির্বাচন করে।

তবে শুধু নারী বিদ্বেষই নয়, কম্পিউটার প্রকৌশলীদের আনা পরিবর্তনের পর বৈষম্য করার নতুন উপায় খুঁজে বের করে অ্যামাজনের তৈরি এআই। ব্যবস্থাটি এরপর থেকে নির্দিষ্ট পদে অযোগ্য প্রার্থীদের আবেদনপত্র বিশ্লেষণের সময় উগ্র আচরণ প্রদর্শন করে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই ২০১৭ সালে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গবেষণা বন্ধ করে দেয় অ্যামাজন। রয়টার্স/ বিজনেস ইন্সাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ