প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বালি সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে

সোহেল রহমান, বালি থেকে : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে আসা একাধিক দাতাসংস্থার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যার্থে অনুদান চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক অপর্ণা সুব্রামনি, এডিবি’র নির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা মিগা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিস হোন্ডা, সিটি ব্যাংক এনএ’র প্রতিনিধিদল ও দাতাসংস্থা আইএফসি’র আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট ¯েœজানা স্টয়িলজকভিক প্রমুখের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার বালি-তে ‘বালি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার’-এ এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকগুলোর বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ ঢাকার সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাতাদের বলা হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য কোন ঋণ নেয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের সহায়তা হতে হবে অনুদান। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন যে, আগামীতে রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে সমস্যা হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের মনোভাব চূড়ান্ত না-ও হতে পারে। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এর বাইরে আগামী এক বছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। কারণ বিশ্বব্যাংক ইতোপূর্বে বাংলাদেশকে তিন বছরের জন্য (২০১৭-২০১৯) ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা দুই বছরেই এই অর্থ শেষ করে ফেলেছি। তাই তৃতীয় বছরের জন্য আরও ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা আমাদের ২০০ কোটি ঋণ সহায়তা দেবে বলে আশা করছি। আলোচনার অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অন্যান্য বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সে দেশের অর্থমন্ত্রীকে আমদানি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছি।

বিশ্বব্যাংকের সহযোগি সংস্থা মাল্টিলেটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি (এমআইজিএ) সিইও কেইকো হোন্ডার সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে সংস্থাটি অর্থায়ন করছে। বিশেষ করে জ্বালানিখাতে তাদের সহযোগিতা বেশি। আমি তাদের ঋণ সহায়তা বহুমূখী করা সহ বাংলাদেশের অন্যান্যখাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছি। তারা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনাশীপ (পিপিপি)-এ বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছি।

বিশ্ব ব্যাংকের অপর সহযোগি সংস্থা ইন্টারন্যানাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএফসি’র সঙ্গে গত ৫/৬ বছর ধরে বাংলাদেশে তাদের পোর্টফলিও অনেক বড় হয়েছে। তারাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থাটি বলেছে বাংলাদেশে একটি প্রকল্প প্রসেজিংয়ে অনেক সময় লাগে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।

এছাড়া রাজধানি ঢাকা বর্তমানে অত্যন্ত জনবহুল শহরে পরিণত হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেনি। ফলে জনদূর্ভোগ বেড়্ইে চলেছে। আমি তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মত ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা চাইলে তারা এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত