প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেনেড-সন্ত্রাসীদের পরাজয়

প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি: ২১ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঘটে যাওয়া বর্বরতার কথা মনে আছে কি আপনার, প্রিয় পাঠক? পৈশাচিক বর্বর হামলায় ২৪টি তাজা প্রাণ ঝরেছিলো সেদিন। মনে আছে, প্রিয় নেত্রী আইভি রহমানের মৃত্যু, আহত শেখ হাসিনার কথা? গ্রেনেডের স্পিন্টারবিদ্ধ হয়ে আহত মানুষগুলোর যন্ত্রণার জীবনযাপন করার কথা? ২১ আগস্টের হায়েনাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা এবং গণধিক্কার। মানবতাবিরোধী ভয়ংকর এই হামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচারের রায়ে অনেককিছুই অর্জন আছে। ১৯৮১ সালে দেশের টানে, দেশেপ্রেমের মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে নিজ ভূমিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে রচিত হতে থাকে নতুন ইতিহাস। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দারিদ্রমুক্ত ও অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে ছুটে চলেছেন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া। কারণ তার শরীরে বইছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৎ, সংগ্রামী, প্রতিবাদী এবং দেশপ্রেমের রক্তধারা।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর বহুবার তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ হাসিনাকে যতবার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে, তা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে এবং গণদাবির প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে সংসদে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য বিল পাস হয়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে সে আইন বাতিল করে। শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে ঘাতকদের উস্কে দিয়ে হত্যার পথ প্রশস্ত করে দেয়। জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সে ঘৃণিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নারকীয় হত্যাকা-ের মধ্যদিয়ে। কিন্তু ঘাতকদের মূল টার্গেট ব্যর্থ হয়। গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

এরপর তারেক-বাবরের পরিকল্পনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের আড়াল করতে ঘৃণিত-ধিকৃত মিথ্যাচার-নাটক আমাদের সকলেরই জানা। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে হাওয়া ভবনের কুকীর্তি, ভ-ামির সব মন্ত্র জাতির কাছে ফাঁস হয়েছে। গণধিকৃত বাবর-পিন্টু আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

সত্য-সুন্দরের আলোর দাবিতে মুক্তি চেয়ে বিজয় এনেছিলেন আমাদের শহিদেরা। তারপর সততা ও সাম্যের গান গেয়ে এগিয়ে যাই আমরা। পাই অগ্রগতির পথ। আমরা এখন সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে। আমরা এগোচ্ছি সব বাধা-বিপত্তিকে পায়ে ঠেলে। ঘৃণ্য, বর্বর পরাজিতদের বাধা উপড়ে ফেলে আমরা এগোবোই। এটাই হোক আমাদের শপথ।

লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত