প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্র ও সন্ত্রাস সেদিন একাকার হয়ে যায়

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.): বিশ্বের ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে সরকার। তাই সরকারের মন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানগণ যখন সুপরিকল্পিতভাবে জনসমাবেশের ওপর গ্রেনেড আক্রমণ চালায় তখন কোনটি রাষ্ট্রীয় কর্মকা- আর কোনটি সন্ত্রাসী কর্মকা- তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর জনাকীর্ণ এলাকা গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দেশের সর্ববৃহত রাজনৈতিক দলের জনসমাবেশের ওপর বর্বরোচিত গ্রেনেড আক্রমণের বিচার অর্থ্যাৎ আদালতের রায় পাওয়া গেল ১৪ বছর পর। রায়ে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস ছালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমানে পলাতক তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে। ফাঁসি ও যাবজ্জীবনের তালিকায় আছেন বিএনপির ওই সময়ের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাসহ সে সময়ের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। আদালত ১২টি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে স্পষ্টত মনে হয়েছে এই আক্রমণের পিছনে তৎকালীন জামায়াত-বিএনপি সরকার সরাসরি জড়িত। রায়ের পর্যবেক্ষণের মধ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তখনকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বাবরের সেই কুখ্যাত উক্তি, ‘উই আর লুকিং ফর শত্রুজ’ আজ মানুষের কানে নতুন করে বেজে উঠছে। কত বড় নির্মম পরিহাস, ভাবা যায় না। কৃত্রিম ও নকল শত্রু খোঁজার চেষ্টারত লুৎফুজ্জামান বাবর আজ আদালতের রায়ে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে প্রমাণিত ও সাব্যস্ত হয়েছেন। কথায় আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এতবড় হত্যাকা- চালিয়ে তারা ভেবেছিল কে আর তাদের ধরবে, এমন ক্ষমতা কারও নেই। একেই বলে নিয়তি ও পরিণতি। রায় ঘোষণার পর বিএনপির নেতৃবৃন্দ যা বলছেন তা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে বিএনপিকে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এক. এমন একটা দুনিয়া কাঁপানো বীভৎস ও নারকীয় হত্যাকা-ের পর সেটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কেন তারা মিথ্যা জজ মিয়া নাটক সাজালেন। দুই. আদালতের অনুমতি ব্যতীত দুই. আদালতের অনুমতি ব্যতীত এবং সংরক্ষণ না করে তৎকালীন বিএনপি সরকার কেন অপরাধের সমস্ত আলামত ধুঁয়ে-মুছে পরিষ্কার এবং ধ্বংস করে ফেলল। তিন. পাকিস্তান সেনবাহিনী কর্তৃক তৈরি তাজা গ্রেনেড কী করে আক্রমণকারীদের হাতে এলো। বিগত ১৪ বছরে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর বিএনপি দেয়নি। আসলে দেওয়ার মতো উত্তর তাদের কাছে নেই। তবে বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কিছু বাকি নেই।

১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যে লক্ষ্যে হত্যা করা হয়, ঠিক সেই একই উদ্দেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড আক্রমণ চালানো হয়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও দর্শনের রাষ্ট্রনীতি যেন কোনো দিন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে। এ কারণেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে রক্ষক সেজে ভক্ষকের ভূমিকা নেয় তৎকালীন জামায়াত-বিএনপি সরকার। কী বীভৎস সেই হত্যাকা-ের চিত্র। রাষ্ট্রীয় বাহিনী যখন নিজ দেশের জনগণকে হত্যা করার কাজে নেমে পড়ে তখন সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রের মধ্যে মানুষ পার্থক্য খোঁজে পায় না।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত