প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুল রাজনীতি ও বিএনপির মান-অপমান

অজয় দাশগুপ্ত সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে: নির্বাচন একদিকে যেমন সরকার পরিবর্তনের সুযোগ দেয় আরেকদিকে নির্বাচন মানে মানুষের মতামত জানার সেরা উপায়। তারা যে সরকার পরিবর্তন করতে চান এমনটা নাও হতে পারে। তাদের চাওয়াকে মূল্য দিলে কত আশ্চর্যজনক আর অদ্ভুত কিছু হতে পারে। এই তো কিছুদিন আগে নব্বই বছরেরও বেশি বয়সের মাহাথীর মুহাম্মদকে আবারও ফিরিয়ে এনেছেন জনগণ। এটা নিয়ে কারও কিছু বলার নেই। কারণ এ ছিল পিপলস চয়েজ। অন্যদিকে আমেরিকার জনগণ বা ভোটারেরা তাদের দেশ পরিচালনায় এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজনকে, যিনি মানসিকভাবে একধরনের উৎকেন্দ্রিক নেতা। তার আমলে আমেরিকার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিজেদের বেলায় ভালো হলেও বিদেশে তিনি নিন্দিত। ভারতের জনগণ নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে এসেছেন গণতান্ত্রিক ভারতের সিংহাসনে। যে ভারত অসাম্প্রদায়িকতা আর গণতন্ত্রের জন্য দুনিয়া খ্যাত তার রাজমুকুট উঠেছে মোদীর মতো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নেতার মাথায়। সবই জনগণের ইচ্ছা। আমাদের দেশে কখনো কখনো এমন হলেও প্রায়ই তা হয় না। কে দায়ী বা কোন দল দায়ী সে কথা তুললেই চলবে বিতর্ক। সরকারি দল আওয়ামী লীগের যেমন ভোটভীতি আছে তেমনি বিএনপির আছে অকারণ আস্থা। অকারণ এই কারণে আসলে জনগণ কী চায় সেটা বিএনপি বোঝে না। তারা মনে করেন নেগেটিভ ভোট মানে তাদের অধিকার। তারা এটাও মানেন না; ভারতবিরোধিতা, সাম্প্রদায়িকতা আর সরকারের ওপর অসন্তোষ এই তিনের ওপর ভিত্তি করে আর যাই হোক দীর্ঘকাল রাজনীতি করা যায় না। ভুলভ্রান্তি যে কত বিপজ্জনক হতে পারে নিচের খবরটাই তার বড় উদাহরণ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিরোধী জোটের জন্য ৩০০ আসন বণ্টনের রূপরেখা দিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী। এর মধ্যে বিএনপিকে ১৫০ এবং যুক্তফ্রন্ট ও অন্যান্য দলকে ১২০ আসন দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি। এ ছাড়া সুশীল সমাজকে ১০ আসন এবং জামায়াত ছাড়া বিএনপি জোটের অন্যান্য শরিকদের ২০ আসন দিতে চান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বি. চৌধুরীর এই আসন বন্টনের লিখিত প্রস্তাব বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কতটা খারাপ হাল হলে বিএনপিকে এমন একটা প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে? কে না জানে এই দলটির ওপর এখন শনির দশা চলছে। কিন্তু কেন? একসময় তো তাদের ভূমিকা আর হাবভাব দেখে মনে হতো তাদের বিকল্প নেই। তাদের নেতারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এমন সব কথা বলতেন বা এমন কাজ করতেন, যাতে মনে হতো বাংলাদেশ আসলে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হয়নি। কোন এক সেনা অফিসারের বাঁশির ফুঁ-ই ছিল সবকিছু। ইতিহাসকে যারা অতীতের কর্মকা- মনে করেন; তাদের চোখ খুলে দেওয়া বর্তমান কেন যে তাদের বিবেকের জানালা খুলতে পারে না, কে জানে? পারলে এমন অপমান বিএনপির কপালে জুটত না। যুবকের ঔদ্ধত্য যুবশক্তির অপমান আর বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে অপমানের শাস্তি পাওয়া দলটিকে এখন বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে তাদের কল্যাণে রাষ্ট্রপতি হতে পারা মানুষটি। তিনি কী কারণে সে দল ছেড়ে বিকল্প দল করেছেন তা সবাই জানেন। সবচেয়ে বেশি জানে বিএনপি নিজে। এই অপমান করার পেছনে যে নিষ্ক্রিয়তা আর হতাশা; তা আমাদের সমাজকে আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে, নেতা হতে হলে মুখে আপোসহীন হতে হয় না। হতে হয় শেখ হাসিনার মতো আপন তেজে চলা কেউ। তাঁর আমলে আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা নানাস্তরে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পরও দল ও সরকার চলছে সমান তালে। বিএনপি কি এই অপমান থেকে আসলে কোন শিক্ষা নেবে? আর এমন প্রস্তাব গিলে আরো একবার তলিয়ে যাবার রাস্তা খুঁজবে? সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ