প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিয়ান অস্ত্রে বিভাজিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

নূর মাজিদ : অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিখাতের পরই সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি রপ্তানি করে সবচাইতে বেশি অর্থ আয় করে রাশিয়া। আর সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র রপ্তানির বাজারে রাশিয়ার যে অত্যাধুনিক অস্ত্র আগ্রহী ক্রেতা দেশগুলোর মাঝে সাড়া ফেলেছে সেটি হলো এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনকি আমেরিকার অনেক নতুন ও পুরোনো মিত্র রাশিয়ার তৈরি এই সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আগ্রহ পোষণ করেছে। মার্কিন অনুরোধ অগ্রাহ্য করেই চলতি মাসে রাশিয়া থেকে ৫শ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়েক রেজিমেন্ট এস-৪০০ সিস্টেম কেনার চুক্তি করেছে ভারত। অন্যদিকে, এস-৪০০ কেনার ইচ্ছা পোষণ করায় তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের চালান আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দেশটির পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্কও আরোপ করা হয়। রাজনৈতিকভাবে এই শুল্কারোপের কারণ হিসেবে তুরস্কে গ্রেফতারকৃত মার্কিন ধর্মযাজকের গ্রেফতারের কথা বলা হলেও, এস-৪০০ কেনার তুর্কি সিদ্ধান্তও ওয়াশিংটনকে দেশটির ওপর নাখোশ করেছে।

তবে শুধু ভারত ও তুরস্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র বলে পরিচিত সৌদি আরব বেবং কাতারও এস-৪০০ কেনার পরিকল্পনা করেছে। তবে মার্কিন চাপের মুখে দেশদুটি তাদের এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। তবে যে দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ নয় তারা সকলেই নির্দ্বিধায় এস-৪০০ ব্যবস্থা কিনছে। যার উজ্জ্বল উদাহরণ হলো ভারত ও চীন।

এর কারণ হিসেবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অস্ত্র ক্রয় ও সামরিক ব্যয় বিষয়ক গবেষক সিমন ওজেম্যান বলেন, বর্তমানে যে সকল আকাশ প্রতিরক্ষা পশ্চিমের হাতে রয়েছে তাদের চাইতেও বেশি সক্ষমতা রয়েছে এস-৪০০ এর, এই কারণে অনেক দেশ এই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ে আগ্রহী হয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের গবেষক কেভিন ব্রান্ড বলেন, এস-৪০০ এর বহুমুখী সক্ষমতা রয়েছে। একাধারে দূরপাল্লা, মাঝারি এবং স্বল্প পাল্লার আকাশ-সীমার সুরক্ষায় এস-৪০০ মোতায়েন করা সম্ভব। মূলত ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এই সক্ষমতা তৈরি করে দিতে প্রস্তুত রাশিয়া।

আইএইচএস মার্কিটের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা শিল্প বিশেষজ্ঞ ও গবেষক চার্লস ফরেস্টার বলেন, এস-৪০০ কেনাবেচায় সর্বদাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যু জড়িত। কারণ আমরা একটি উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর বা বিক্রয়ের কথা বলছি, যার প্রভাব ভূ-রাজনৈতিক সামঞ্জস্য ও সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্য আমূল পরিবর্তনে সক্ষম। একমাত্র পৃথিবীর প্রভাবশালী দেশগুলোই এই ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ে সক্ষম, (এস-৪০০ ইস্যুতে) ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসকল দেশের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তারা সকলেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বা কৌশলগত মিত্র। এক্সিওজ ডট কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ