প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লম্পট? অর লম্পট অ্যান্ড ভণ্ড? কোনটা বেটার?

যায়নুদ্দিন সানী : আসলে লেখার মতো তেমন কিছু নেই। সেই একই ঘ্যান ঘ্যান। সরকার বলছে, দেশ উন্নয়নে ভাসছে। আর বিরোধী দল বলছে, সরকার ফ্যাসিস্ট। আছে কিছু গৃহপালিত সাংবাদিক কাম কলামিস্ট কাম বুদ্ধিজীবী। নিজ নিজ প্রভুর হয়ে গুণ গাইছেন। আই ডোন্ট মাইন্ড। বাক স্বাধীনতা সবারই আছে। যেটা নিয়ে সমস্যায় আছি তা হচ্ছে, নিউজের টপিক আর তার ট্রিটমেন্ট নিয়ে। পত্রিকা না সোশ্যাল মিডিয়া? কোনটা বেটার? অথেনটিসিটির কথা বলছি না। বলছি, রিয়েল টপিক চোখের সামনে এনে দেয়ার ক্ষেত্রে। পত্রিকায় যেমন হেডলাইন দেখে সিদ্ধান্ত নিই, এটাই মূল খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা হয় না। এখানে চোখের সামনে বেশি ভাসে, চটকদার খবর। কখনও দলের পক্ষে যায় এমন খবর। আর সেখানেই হতাশা লাগছে।

কিছুদিন আগে গেল, ‘মিস বাংলাদেশ’ জাতীয় একটা প্রতিযোগিতার ভিডিও ক্লিপ নিয়ে। প্রতিযোগিনী একজন মেয়ে উইশ শব্দের মানে বোঝেনি। আরেকজন বুঝতে পারেননি এইচ টু ও মানে। এরপরে শুরু হল ফেসবুকীয় মাতম। একদল আছে পক্ষে। ‘পারেনি তো কি হয়েছে?’ আরেকদল আছেন বিপক্ষে, ‘ছি ছি, এই হচ্ছে আমাদের সুন্দরী প্রতিযোগীদের স্ট্যান্ডার্ড?’ কেউ কেউ জাজদের পেছনে লাগলেন। কেউ আবার খেপলেন, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কতোটা বিচ্ছিরী একটা আইডিয়া, তা নিয়ে। রেশ এখনও চলছে। বাঙ্গালি পারেও।

এই ঘটনার রেশ যেতে না যেতে শুরু হল প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে করা প্রেসিডেন্টের রসিকতা। ফেসবুকের টাইমলাইনের অবস্থা তো সেদিন ভয়ংকর রূপ নিল। চুলচেরা বিশ্লেষণ চলল। পক্ষে যেমন অনেকে আছে। বিপক্ষেও কম নাই। পক্ষের লোকেরা বলছে, এটা জাস্ট ফান। বিপক্ষের লোকেরা বলছে, প্রেসিডেন্ট দারুণ একটা সম্মানের পদ। আমাদের মাথা হেঁট করে দিল। এ পি জে আব্দুল কালাম কত মহান মহান কথা বলে গেছেন আর আমাদের প্রেসিডেন্ট? ছি । বা বা বা। গিভ মি অ্যা ব্রেক ম্যান।

মূল ব্যাপারটা কি? একটাই। নারী অ্যান্ড নারীর শরীর। দারুণ মুখরোচক এক টপিক। শো স্টপার। মুখে একরাশ লালা নিয়ে সবাই বসে থাকে এমন টপিক নিয়ে আলোচনা শুনতে। চেহারায় লজ্জা, মনে ইচ্ছে। চাই শুধু একটা ডিসগাইজ। ভদ্রতার মুখোশ। তাই মুখে বলে, ‘ছি ছি, এসব কি বলছে?’

আর যারা বলে? ঐ একই। কখনও ভাঁড় সেজে কখনও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট সেজে। কখনও বিবেকের বেশে তো কখনও লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে। মোটকথা, এনিয়ে বলতে আমরা সবাই মজা পাই। শুধু মজা না, দারুণ, দারুণ অ্যান্ড দারুণ মজা। সর্ট অফ এরোটিক ফিলিং। মনে হয় দারুণ একটা কাজের কাজ করলাম আজকে। নীতিবান সেজেই বলি আর প্রগতিশীল সেজেই বলি, আসল চাওয়া একটাই। ‘দারুণ মজাটা’ চেখে দেখা।

এদিক দিয়ে ভাবলে, ট্রাম্পকে আমার মহাপুরুষ মনে হয়। ব্যাটার গাটস আছে। সবার সামনেই বলে, ইভাংকা মেয়ে না হলে আমি ওর সাথে ডেট করতাম। বি লাইক হিম।

নারীর সৌন্দর্য নিয়ে আলাপ করতে চাইলে, এভাবে চাঁচাছোলা ভাবেই করুন। নিজের আসল চেহারা দেখিয়েই করুন। ডিসগাইজের কি আছে? মিষ্টি মিষ্টি কথা বললে পাঠকরা বুঝতে পারবে না ভাবেন? গবেট কোথাকার। সবাই বোঝে। কোন মেয়ের দিকে আড়চোখে তাকালে, সে স্পষ্ট করে একটা ব্যাপারই বোঝে, ‘ব্যাটার মনে খায়েশ আছে, কিন্তু সাহস নাই’।

সো? বটম লাইন হচ্ছে, নিজের আসল চেহারা নিয়ে সামনে আসুন। ভদ্র কথার আড়ালে লুকিয়ে লাভ নেই। দ্যাট ডে গন। আপনি কি বলছেন, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। আপনার লেখা দুলাইন পড়লেই সবাই বোঝে, আসলে কি বলতে চাইছেন। সো, বি লাইক ট্রাম্প। সুন্দরী মেয়ে দেখলে আপনার ডেট করতে ইচ্ছে করে, বলুন। মনে নোংরামি থাকলেও বলুন। কি আর হবে? আপনাকে লম্পট ভাববে, এই তো? আর লুকিয়ে বললে কি ভাববে? লম্পট অ্যান্ড ভণ্ড। হুইচ ওয়ান ইজ বেটার? সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত