প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

মা-বাবার মৃত্যুতেও ছুটি নেই যে শ্রমিকদের!

ডেস্ক রিপোর্ট : এমন এক স্থানে চাকরি করছি, যেখানে মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে অথবা পরিবারের কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় ঠিক, ছুটি মিলে না। শেষবারের মতো মুখটিও দেখা হয় না। এমন ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কথাগুলো বললেন বিমান বাংলাদেশ এয়াররাইন্সে দৈনিক মজুরিতে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ঘেরাও ও অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়াররাইন্সে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আয়োজিত বিমানবন্দর ঘেরাও ও অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে বক্তারা বলেন, সরকারি সাধারণ ছুটি, অসুস্থজনিত ছুটি, মেডিকেল সুবিধা, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন এখনও আকাশকুসুম কল্পনার মতো। অথচ আমাদের ত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ বিমান সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বিমানে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা ৫৯ বছরে পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরে, আর আমরা ২৫ থেকে ৩০ বছর চাকরি শেষে ফিরি খালি হাতে। কর্মস্থলে কোনো দুর্ঘটনায় হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারানোর পর এখানে তার আর চাকরি থাকে না। যতদিন শরীরে শক্তি আছে ততদিন দৈনক মজুরিতে টিকে থাকা। এরপর খালি হাতে বাড়ি ফেরা এ এক আজব নিয়মেই চলছে বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থায় রয়েছে কর্মস্থলে কোনো কর্মচারি দুর্ঘটনায় হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারালে বা অসুস্থ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে। অথচ এখানে দুর্ঘটনায় পতিত ওই ব্যক্তিটির চাকরি চলে যায় সেদিনই। এই আজব ও অমানবিক নিয়ম থেকে মুক্তি চাই।

প্রধানমন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে বিমানে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিকদেরকে স্থায়ী করে নিন।

বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. মাশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মন্তাছার রহমানের সঞ্চলনায় সাধারণ শ্রমিকরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে তারা গত ৩ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত