প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবজি চাষ বেড়েই চলছে মানিকগঞ্জে

আদম মালেক : পদ্মা নদী বিধৌত মানিকগঞ্জ জেলায় উর্বরতার কারণে সবজির বামফার ফলন হয়। আবার রাজধানীর
উপকন্ঠে হওয়ায় বাজারজাতকরণেও তেমন অসুবিধা নেই। উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ আর সরবরাহের সুযোগে
বেড়েুই চলছে মানিকগঞ্জ জেলায় সবজি উৎপাদন।

জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় প্রতিটিতেই কম বেশি সবজির আবাদ হয়। তবে মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়। সারা বছরই বাণিজ্যিকভাবে নানা জাতের সবজি চাষ করেন এসব এসব এলাকার কৃষকরা। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারগুলো।
অনুকূল আবহাওয়া আর ভালো বাজারজাত থাকলে বেশ লাভবান হওয়া যাবে বলে মন্তব্য কৃষকদের। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলার সাটুরিয়া উপজেলার কামতা এলাকার সবজি চাষি শাজাহান মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়।
শাজাহান মিয়া জানান, ১০ হাজার টাকা খরচে দুই বিঘা জমিতে লাউ ও লালশাক চাষ করেছেন। এর মধ্যে তিনি ১০ হাজার টাকার লালশাক ও প্রায় ১৫ হাজার টাকার লাউশাক বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার লাউশাক বিক্রি করতে পারবেন। এরপর ওই জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করা হবে। চরধানকোড়া এলাকার কৃষক রহিম মিয়া জানান, রমজান মাসের আগে ৮৩ ডেসিমেল জমিতে শসার আবাদ করেছিলেন। জমি তৈরি, সার, বীজ ও জমিতে মাচাইলসহ (স্থানীয় ভাষায় জাংলা) সব মিলিয়ে তার খরচ হয় ৬০ হাজার টাকা। এরপর ওই জমি থেকে তিনি প্রায় লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছিলেন। তবে শসার ফলন ভালো হয়নি বলে আশানুরূপ মুনাফা অর্জন হয়নি। এরপর ওই একই জমিতে মাত্র তিন হাজার খরচে ধুন্দল চাষ করে
ওই মাচাইল ব্যবহার করেন। সেখান থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ধুন্দল বিক্রি করেন তিনি। এখন সেই একই জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। শিমের আবাদে ফলন পাওয়া পর্যন্ত তার ব্যয় হবে মাত্র ১০ হাজার টাকা। ভালো ফলন আর ঠিক মতো বাজারজাত করতে পারলে এখান থেকে লক্ষাধিক টাকার শিম বিক্রি করবেন বলেও জানান এ কৃষক রহিম মিয়া। হালীম আলী নামে এক বেগুন চাষি জানান, ১০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩০ ডেসিমেল জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন। হাসেম আলী নামে আরেক কৃষক জানান, কৃষকের ওপর নির্ভর কেের জমির ফলন ও খরচের বিষয়টি। নিজের জমি
নিজে দেখাশোনা করতে পারলে কম খরচে বেশ লাভবান হওয়া যায়। ২৪ ডেসিমেল জমিতে ৯ হাজার টাকা খরচ করে
ঢেঁডসের আবাদ করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঢেঁড়স বিক্রি করেছেন। আরও কয়েকদিন বিক্রি শেষে ওই জমিতে আবার ফুলকপির আবাদ করবেন বলেও জানান তিনি।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম চাষ হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার বাকি জমিগুলোতে সবজির আবাদ সম্পন্ন হবে। আগাম সবজির চাষে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় বলে মানিকগঞ্জের চাষিরা সবজি চাষে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার

করছেন। কৃষি অফিস থেকে সবজি চাষিদের সব সময়ই সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণের এ কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত