প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পরকীয়া, সমকামিতা সামাজিক ও সভ্যতাবিরোধী অপকর্ম

মোহাম্মদ আবু নোমান : পরকীয়া যদি অপরাধ না হয়! সকল অবৈধ মেলা-মেশা যদি বৈধ হয়, তাহলে সন্তান কার? সন্তানের অভিভাবকত্ব কে নেবে? পরকীয়া অপরাধ নয়। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এই রায়, একটি সাজানো, গোছানো, সুখ, শান্তিময় পরিবারে ভাঙ্গনের পথ প্রশস্ত করবে নিশ্চয়ই।

‘স্বামী’ তার সংসার, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ছেড়ে অপর একজনের বউয়ের সাথে পরকীয়া করবে; অনুরূপ কারো ‘স্ত্রী’ স্বামীর ভালোবাসা, বিশ্বাস, সংসার, সন্তান ছেড়ে অন্য মহিলার স্বামীর সাথে পরকীয়া করবে। যে যেমন খুশি চলবে, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর বিশ্বাসের অমর্যাদা করবে, রোগ-জীবাণু ছড়াবে, সংসারে অশান্তি করবে, অপকর্ম করবে, বিবাহ বিচ্ছেদ, মারামারিসহ যা-ই করুক কোন অভিযোগ বা মামলা হবে না। কারণ পরকীয়া বৈধ! আর্শ্চয্যজনক ব্যাপার হলো, রায় পড়ার সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, ‘সন্দেহ নেই, পরকীয়া বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ, কিন্তু একে অপরাধ বলা যায় না।’ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলশ্রুতিতে স্পষ্টতই বৈবাহিক সম্পর্ক ব্যতীত মেয়েরা ভোগ্যপণ্য হিসেবেই স্বীকৃত হলো। এটা কি কোন ভদ্র, সভ্য, সম্ভ্রান্ত, সুশিক্ষিত মহিলাদের জন্য সম্মান ও মর্যাদার কারণ হয়েছে?

অসুস্থ সংস্কৃতি লালনে পারঙ্গম, দক্ষিণ এশিয়ার নিকৃষ্ট দেশ ভারত এ নিয়ে এক মাসে সমকামিতার পর পরকীয়ার মতো দু’টি সামাজিকতা ও সভ্যতাবিরোধী অপকর্মকে সমর্থন দিল। এর ফলে পারিবারিক শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়ে সমাজ ব্যবস্থা নোংরা ও কুৎসিত আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সুশীল, চিন্তাশীল ও সভ্য মানুষেরা।

সৃষ্টির শুরু থেকেই সমকামি ও পরকীয়া জঘন্যতম পাপ বলে বিবেচিত। রুচিবিকৃতির নিকৃষ্টতম পর্যায় পৌঁছলেই কেউ সমকামিতা ও পরকীয়ার লিপ্ত হতে পারে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এগুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টধর্মেও এগুলোর অনুমতি দেয় না। মানুষ রুচিবিকৃতির কারণে বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গে আকর্ষণ অনুভব করলেও কোনো ইতর ও পশু প্রাণীকেও এমনটা কখনো দেখা যায়না। এসব বিকৃত মানসিকতাকে চরিতার্থের কোনো ন্যায্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না। ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে একটি পবিত্র সামাজিক বন্ধন ভেঙ্গে দেয়া যায় না। পরকীয়া অপরাধ নয় কেন? পরকীয়ার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ধোকা দেয় ও ঠকায়। বিয়ে অটুট রেখে একজন আরেকজনকে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা ও ধোঁকা দেওয়া কি অপরাধ নয়? পরকীয়াতো যৌনপেশার চেয়েও ঘৃণীত। কারণ, পুরুষ যখন একজন যৌনকর্মির কাছে যায়, তারা ধরেই নেন সেই যৌনকমির্র স্বামী নেই, স্বামীর প্রতি কমিটমেন্ট ভাঙ্গার প্রশ্ন নেই। পরকীয়া কোনও সুস্থ্য সমাজের অংশ নয়। শুধুমাত্র লম্পট, অসচ্চরিত্র, বহুগামী নারী-পুরুষরাই এতে উল্লসিত হবে।

একজন নরনারী স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হয় যে পদ্ধতিতে তাতে কিছু লিখিত, কিছু মৌখিক বিশ্বাস ও শর্ত থাকে। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি অব্যক্ত আস্থা, ভরসা ও বিশ্বাস রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি থাকে। বিয়ে স্বাদী হয় পরিবার, সমাজ, প্রকৃতি রক্ষা করার জন্য। এরূপ একটি পবিত্র ও মহান কাজকে পশুর জাতিতে রূপান্তর করা কি কোন দেশের সংবিধানের দ্বায়িত্বের মধ্যে পরে।

এছাড়াও সমকাম ও পরকীয়া যে স্বাস্থ্যসম্মত নয়, তাও বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, সমকামিতা ও পরকীয়ার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের মামলার রায় আবারো রিভিউ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন আত্মসচেতন মানুষ।

কদমতলী, ঢাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত