প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সারেগামাপা

ইকবাল আনোয়ার : সারেগামাপা ভারতের জি টিভির গানের প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান। ব্যস্তজীবনে টেলিভিশন তেমন দেখা হয় না। খবর দেখার চেষ্টা করি। টক শো চর্বিত চর্বন। তবে সারেগামাপা ঠিকই আমার সময় কেড়ে নেয়, আর নেয় বাংলাদেশের খেলা। একটি বিদেশী চ্যানেলের গানের অনুষ্ঠান নিয়ে দুকলম লিখতে চাইছি।

ক) অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে কিছু কথা : ১. কোন্ গান কি ভাবে গাইতে হয় ও তার বিচার করতে হয়, এ অনুষ্ঠান দেখে বুঝতে পারি। নিজের সঙ্গীত সেন্সের দুর্বলতা টের পাই। বিচারকদের নানান কথা, উপদেশ, ধারালো সেন্স, সৌজন্য, মজা করা, ভাল লাগে। ভাল লাগে এর উপস্থাপনা।  ২. গান গাওয়ার সাধনায় এক একটি অসামান্য গল্প আলোড়িত করে আমায়। ভাল গান গাওয়ার পর, টিকে গেলে, অংশগ্রহণকারীর উচ্ছাস, সংগে আসা বাবা মায়ের আনন্দ প্রকাশ, বিজয়ী যেভাবে বাবা মা কে জড়িয়ে ধরে, আনন্দ করে, ভক্তি করে, ঠিক তার বিপরীতে না টেকা প্রতিযোগীর বেদনা, তার বাবা মায়ের তরফ থেকে সমবেদনা ও সান্ত¡না, এসবও এক দেখার মতো অধ্যায়, পরিবারের বন্ধন কেমন হওয়া উচিৎ এটা দেখে স্বর্গীয় সুখ পাই। ৩. অনুষ্ঠানের বিন্যাসে এবার আরো যুক্ত হয়েছে নানা মাত্রা, বাদকদের বাজনার সময় ভেতরের আনন্দ অকৃত্তিমভাবে ধরা দেয় তাদের চোখ মুখ ও নাচনে। ভালো লাগে ক্যামেরার কাজ, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, মঞ্চ সজ্জা, পরিবেশনা, পোশাক, হিউমার, পরিমিতি দেখ। সব কিছুর এক উচ্চ নান্দনিকতার ও বহুমাত্রিক দ্যোতনায় সমৃদ্ধ এ অনুষ্ঠান। খ) সমালোচনা : যারা দেখছেন ও পছন্দ করছেন এ অনুষ্ঠান, তারা হয়তো আমার কথায় একমত হবেন। কেউ কেউ সমালোচনাও করবেন। বেশী বলা হয়ে গেছে বলে মনে করবেন।

গ) আমার ধারণা : যেভাবে গানকে এখানে মর্যাদার সাথে উপযুক্ত অনুপ্রাস সহ উপস্থাপন করা হয়, যে ভাবে গানের প্রেরণা ও অধ্যবসায়কে প্রমোট করা হয়, তা, সঙ্গীতপ্রেমী, গায়ক, মিউজিক নিয়ে যারা সামনে যেতে চান, সাধনা হিসেবে নেবেন বা নিয়েছেন, তাদের জন্য এ এক বিরাট পাওয়া। এবার বাংলাদেশ থেকেও প্রতিযোগীরা গিয়েছেন, তারা গেয়ে, কথা বলে, দেশের মান উচ্চে তুলে ধরছেন। খুব ভাল লাগে যখন দেখি আমাদের দেশের গানই ওখানকার জনপ্রিয় গান।

ঘ) আশা করি : আমাদের টেলিভিশনেও নকল নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতির আদলে, রুচি-মানসম্মত, বিশেষ করে পরিবারের বন্ধন উৎসাহিত করার মতো এমন অনুষ্ঠান দেখানো হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত