প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিস্ফোরিত বোমার কম্পন আজও মহাশূন্যে অনু্ভূত হচ্ছে

নূর মাজিদ : মানবজাতির ইতিহাসে এক প্রাণঘাতী সংঘাতের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ৮০ বছর আগে এই মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল তৎকালীন বিশ্বের  সকল বৃহৎশক্তি। তাই গোলাবারুদ ও বোমা ব্যবহারে কোন কমতি করেনি বিবদমান পক্ষগুলো। এই বোমাগুলির বিস্ফোরণের প্রমাণ আজও উপস্থিত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তর আয়নোস্ফিয়ারে, যার পরেই ব্যাপ্তি সুবিশাল মহাকাশের। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার স্কট। তিনি যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মহাকাশ এবং বায়ুমণ্ডল বিষয়ক গবেষক।

গত বুধবার লাইভ সায়েন্স অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্কট বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বিমান বাহিনীর বোমা হামলার ঘটনা তার পারিবারিক ইতিহাসের অংশ। জার্মান বোমার আঘাতে তার দুইজন খালা/ফুফু শৈশবেই মারা যান। তাদের একজনের বয়স ছিল ৯ বছর অপরজনের বয়স ১১। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ চমকানোর আওয়াজ আয়নোস্ফিয়ারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে তা মানবসৃষ্ট বিস্ফোরণের শব্দেও হতে পারে। মূলত আয়নোস্ফিয়ারে মেরুজ্যোতি নিয়ে গবেষণাকালে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এরপরেই তিনি মানবসৃষ্ট ঐতিহাসিক বিস্ফোরনের রেকর্ডের সঙ্গে আয়নোস্ফিয়ারের তারতম্য নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

তিনি ঐতিহাসিক ও বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা শুরু করেন। এসময় তিনি আবিস্কার করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বোমার শকয়েভ বা কম্পন আজো মহাশূন্যে অনুভূত হচ্ছে। এমনকি তা পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ারের স্তরকে পূর্বের তুলনায় দুর্বল করে দিয়েছে। কারন এই যুদ্ধে বিশাল আকারের সব বিমানবহর বোমা হামলায় অংশ নেয়।

স্কট এবং তার সহকারিরা বিশ্বযুদ্ধের সমকালীন ইউরোপে ১৫২ টি বড় বিমান হামলার রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, ঐ সময়ে বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট শব্দকম্পন আয়নোস্ফিয়ারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুর্বল করে দেয়। এছাড়াও, রেডিও ইলেকট্রিক তরঙ্গের গবেষণায় তারা প্রমাণ পেয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমার কম্পন আজও মহাশূন্যের ইথারে ভেসে বেড়াচ্ছে। গত মঙ্গলবার এই গবেষণার ফলাফল তারা আনালস জিওফিজিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশ করেন। সায়েন্টেফিক আমেরিকান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত