প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ পটভূমির লোকজ ছবি’

মহিব আল হাসান : ঢাকাই সিনেমায় একসময় নির্মিত হতো বাংলাদেশের আবহমান গ্রাম বাংলার পটভূমি নিয়ে লোকজ (ফোক) ও রাজনীতির ধারার সুস্থ ছবি। দেশ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র যখন সাদা-কালো ফ্রেমে ছিল তখন গ্রামীণ পটভূমির ছবিগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহের কোনও কমতি ছিল না।এরপর রঙিন যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের পদার্পণ হলেও গামীণ পটভূমি নিয়ে সামাজিক, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণ হতো। তখন নির্মাতারা ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ধরনের ছবি নির্মাণ করতেন।কিন্তু কালভেদ্রে ঢাকাই ছবির তালিকা থেকে এমন ধরণের ছবির সংখ্যা হাতে গোনা দুই একটা। যদিও এধরণের ছবি তৈরি হলে দর্শকরা এখন এই ছবিগুলো থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

দেখা যায় বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সূচনা থেকে, অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগ সে সময়কার গ্রামীণ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্মিত। পরিচালক সালাহউদ্দিন ১৯৬৫ সালে নির্মাণ করেন বহুল প্রচলিত লোকগাথা নিয়ে চলচ্চিত্র ‘রূপবান’। এই ছবিটি বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রকে খাদের কিণারা থেকে টেনে তোলে। এরপর বেশকিছু সিনেমা নির্মাণ হয় যার মধ্যে মতিউর রহমান বাদলের ‘দুলারী’, আবদুস সামাদের ‘শিরি ফরহাদ’, এফ কবীর চৌধুরীর ‘বাহাদুর মেয়ে’,এমএ মালেকের’, ‘চাঁদ সওদাগর’, নুর হোসেন বলাইয়ের ‘নাগ কন্যার প্রেম’, ইবনে মিজানের ‘রঙিন রাখাল বন্ধু’ প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘সুজন সখী’ এ ধরণের অনেক ব্যবসাসফল ছবি নির্মাণ হয় আশির দশকে। যা পরবর্তী সময়ে নব্বই দশকে এসেও সফলতার মুখ দেখে।

লোকজ গল্পের ছবি নির্মাণ করে নির্মাতা ব্যাপক সাফল্য পায়। সাফল্যের পাল্লা অব্যাহত থাকে নব্বই দশকেও। ব্যবসায়িক ছবিগুলোর রিমেক করা হয়। এর মধ্যে নায়ক ফারুক ও কবরী অভিনীত ছবি ‘সুজন সখী’ মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র ‘সুজন সখী’ ব্যবসায়িকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরকে নিয়ে পরিচালক শাহ আলম কিরণ ১৯৯৪ সালে ছবিটি পুননির্মাণ করেন।

কালের আবর্তনে এই সমস্ত গল্পভিত্তিক ফোক ছবি নির্মাণ সংখ্যা কমে গেছে। ২০০৫ সালে এসে সালাউদ্দিন লাভলু নির্মাণ করেন ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ ২০০৭ এ কে সোহেলে ‘খাইরুন সুন্দরী’ ২০০৯ গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’।

দেশের একসময় গামীণ পটভূমি নিয়ে সিনেমা নির্মাণ হতো ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। সেখানে দুই হাজার সাল থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে লোকজ ছবির সংখ্যা নেই।

এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন,‘যুগ বদলে গেছে সাথে প্রতিযেগিতা বেড়েছে মুনাফা অর্জনের। এখন যারা সিনেমা বানাচ্ছে তারা সিনেমা জন্য সিনেমা বানায় না । ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতে সিনেমা তৈরি করে। ফোক ছবিতে আমাদের গ্রাম বাংলার মানুষের কথা বলা হয়। তাদের অধিকারের কথা জানানো হয়। এসব গোপন কিছু নয়। তবুও চলচ্চিত্রে ফোক ছবির আকাল পড়েছে। এখন লোকগাথা ছবি নির্মাণ করার মতো উপযুক্ত গল্পকার নির্মাতারও অভাব রয়েছে। দর্শকদের চাহিদা থাকলেও লোকগাঁথা ছবি নির্মিত না হওয়ার এটিও একটি কারণ। তাই আমি মনে করি ফোক ছবিতে প্রযোজকের লগ্নিকৃত টাকা মুনাফাসহ ফেরত আসবে।’

সিনেমার সাথে সংষ্ঠিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,‘দেশের বর্তমানে হল সংখ্যা কম। তাই প্রযোজকরা শহরকে টার্গেট করে সিনেমা নির্মাণ করেন। কেননা শহরের লোকদের জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে ছবি নির্মাণ করেন। অথচ গ্রাম বাংলার মানুষ সিনেমা শহরের মানুষের থেকে বেশি দেখেন তা তারা মাথায় রাখেন না। আর এ জন্য বাংলা সিনেমাটা এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। আর এসব কারণে সিনেমার তালিকা থেকে গ্রামীণ পটভূমি ও লোকজ সিনেমা বিলপ্তির পথে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত