প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
সম্পাদক পরিষদের দাবি নিরসনের উদ্যোগ নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

হুমায়ুন কবির খোকন : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ ও দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনা করে তা নিরসনের উদ্যোগ নেবে।

রোববার সচিবালয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সরকারের তিন মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সম্পাদক পরিষদও আশা প্রকাশ করে বলেছেন, তারাও মনে করেন আলোচনার মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি বলে জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এসব ধারার বিষয়ে আলোচনার জন্য আবারও মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার পর আবারও তারা সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বসবেন।

সরকারের অনুরোধে মানবন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে সচিবালয়ে এ বৈঠকে যান দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা। আইনমন্ত্রী ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ বৈঠকে অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ রকম একটা আইন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে, আমরা সেই ঐকমত্যে পৌঁছেছি। কিন্তু এ রকম একটা আইন যেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে- সেই ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন আছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আনিসুল বলেন, অন্যান্য ধারা নিয়ে কারও বক্তব্য নেই। ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেখানে অনেক এজেন্ডা আছে, পরে যে কেবিনেট মিটিং হবে সেখানে এটাকে আমি উপস্থাপন করব। এডিটরস কাউন্সিলের আপত্তিগুলো তা তুলে ধরব। আলোচনা করার জন্য যে টার্মস অব রেফারেন্স দেওয়া হবে সে অনুসারে আমরা আবার আলোচনায় বসার জন্য সম্মত হয়েছি। আনিসুল বলেন, খবরের কাগজে সম্পাদক পরিষদের আপত্তিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য তথ্যমন্ত্রী এবং আইসিটি মন্ত্রীসহ আমরা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করব। ২১ ধারাটা মোটামুটি আমরা এগ্রি করেছি, যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। কিছু যদি আরও ভালো করা যায় চিন্তা করা হবে।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, নিউ এইজের নুরুল কবীর, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, যুগান্তরের সাইফুল আলম, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউনের জাফর সোবহান, ইনডিপেনডেন্টের শামসুর রহমান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সমকালের মুস্তাফিজ শফি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সচিব আবুয়াল হোসেনও সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন।

আনিসুল হক বলেন, আইনটি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি এখনও আইনটিতে স্বাক্ষর করেননি। তাই এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৩ অক্টোবরের পরে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আইনটি উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে এসব বিষয়ে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। আলোচনার মাধ্যমেই জটিলতা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে পারবেন বলে তারা মনে করেন।

বৈঠক শেষে মাহফুজ আনাম বলেন, তারা আলোচনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, তারা মনে করেন, যে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে সেটা সংবিধানে বাক ও গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তার লঙ্ঘন করবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও গণতন্ত্রেরও পরিপন্থী। ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন, আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে পারবেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনটি সংসদে পাস হওয়ার আগে আমরা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছিলাম। তৃতীয় আরও একটি বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলো যে, তৃতীয় বৈঠকটি আর হয়নি। কেন ওই বৈঠক হলো না এটা আমাদের কাছে বিরাট প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী যে, আলোচনার মাধ্যমে যেসব জায়গায় আমাদের আপত্তি রয়েছে সেগুলো পরিবর্তন করে আইনটি সংশোধন করা হবে। আমরা বাতিল করতে বলছি না, সংশোধন করতে বলছি। ডিজিটাল নিরাপত্তার ব্যাপারে সম্পাদক পরিষদ অত্যন্ত সচেতন। আমরা মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা আধুনিক আইন থাকা উচিত। তবে কোনো আইনই যেন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে না যায়।

পরে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য, বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সহ-সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী এবং ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি গ্যালমান শফি এসময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে তাদের খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন এবং পেশাগত দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর এর অপপ্রয়োগ যাতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত