প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের করুণ দশা

ফয়সাল মেহেদী : সম্পদ ব্যবস্থাপকদের অদক্ষতা ও অনিয়মের কারণে শেয়ারবাজারের নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর এখন করুণ দশা। বাজার স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ঠেকেছে তলানিতে। অধিকাংশ ফান্ডের ইউনিট দর ইস্যু মূল্য বা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যাওয়ায় যারা বিনিয়োগ করেছেন তারাও রয়েছেন চরম বিপাকে।

শেয়ারবাজারের ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে বর্তমানে ৩৩টির বা প্রায় ৯০ শতাংশের ইউনিট দর ইস্যু মূল্য ১০ টাকার নিচে পড়ে আছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ফান্ডের ইউনিট দর নেমেছে ৫ টাকারও নিচে। বেশির ভাগ ফান্ডের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ভালো মুনাফা দিতে পারছে না।

অভিযোগ রয়েছে, শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থের ৭৫ ভাগ নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগ করতে হয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে। তবে অধিকাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এই পরিমাণ বিনিয়োগ নেই। বাজার সাপোর্টের ক্ষেত্রে নেই কোনো ভূমিকা। ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে রয়েছে চরম দক্ষতার অভাব। ফান্ড পরিচালনায়ও নেই কোনো স্বচ্ছতা। বাজার সাপোর্টের পরিবর্তে টাকা খাটানো হচ্ছে হাঁস-মুরগি, গরুর খামারে। বিনিয়োগ করা হচ্ছে আজেবাজে শেয়ারে। এসব কারণেই ধুঁকছে খাতটি।

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহি পরিচালক (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার এই প্রতিবেদককে বলেন, সারা বিশ্বেই মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম প্লাটফর্ম। পৃথিবীর সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের কাছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খুবই লোভনীয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই দশকে ৭গুণ অগ্রগতি হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। কিন্তু সম্পদ ব্যবস্থাপকদের অদক্ষতার কারণে আমাদের দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর বাজে অবস্থা। পূরণ হচ্ছে না মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠনের উদ্দেশ্যে। যেখানে-সেখানে বিনিয়োগ করে লোকসান গুণছে বেশির ভাগ ফান্ড।

তিনি আরও বলেন, যে সম্পদ ব্যবস্থাপকরা ফান্ড পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে যারা সফলতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের ডেকে এনে আরও ফান্ড পরিচালনার দ্বায়িত্ব দেওয়া দরকার।

এদিকে সম্প্রতি মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ ১০ বছর বাড়িয়ে ২০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের কারণে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সঙ্কট আরও বাড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দুরবস্থার জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ী। তাদের অব্যবস্থাপনা আর অদক্ষতার কারণেই ফান্ডগুলোর এ অবস্থা। এর দায় বিএসইসিও এড়াতে পারে না। নতুন নতুন ফান্ড অনুমোদন না দিয়ে, মেয়াদ না বাড়িয়ে বিএসইসির উচিত যে ফান্ডগুলো আছে সেগুলোতে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে বিনিয়োগকারীদের অর্থফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত