প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গত তিন দশকে ঢাকায় জমির দাম বেড়েছে তিন গুণ

সাজিয়া আক্তার : বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় আবাসন সংকট একটি বহুল আলোচিত বিষয়। রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী গত তিন দশকে ঢাকায় জমির দাম গড়ে ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও যেকোনো এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবতেও পারেন না। সূত্র : বিবিসি বাংলা

এই মূহুর্তে ঢাকায় কুড়ি হাজার তৈরি ফ্ল্যাট অবিক্রীত অবস্থায় থাকলেও ঢাকায় একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই এর ব্যবস্থা করতে হিমসিম খাচ্ছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ। কিন্তু তাদের সামর্থের মধ্যে একটি বাসা বা ফ্ল্যাট মেলানো যায় না।

এদিকে মধ্যবিত্তদের রোজগারের বড় অংশটি চলে যায় বাড়ি ভাড়ায়। কিন্তু ফ্ল্যাটের যে দাম, তাতে টাকা জমিয়ে ফ্ল্যাট কিনা যায় না। আবার একটা দাম টার্গেট করে টাকা জমালেও এক পর্যায়ে এসে সেটার দামও তখন বেড়ে যায়।

ফ্ল্যাটের দাম একেক এলাকায় একেক রকম। ঢাকার শ্যামলীতে একটি ফ্ল্যাট কিনতে গেলে প্রতি বর্গফুটের দাম পড়বে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে মিরপুরেও প্রতি বর্গফুটের দাম একই রকম। কিন্তু আবার শ্যামলী থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে ধানমন্ডিতে প্রতি বর্গফুটের দাম হবে আট হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। গুলশান কিংবা বারিধারায় সেটি হবে আরো বেশি।

আর মধ্য আয়ের লোকজনের মধ্যে ৬০০-১২০০ বর্গফুট মাপের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি । ৬০০-৮০০ বর্গফুটের মধ্যে থাকে দুটি শোবার ঘর, দুটি বাথরুম আর খাবার ঘর ও বসার ঘর। আর ৯০০ থেকে ১৫০০ বর্গফুটে থাকে তিনটি শোবার ঘর, অন্তত দুটি বাথরুম, লাগোয়া বারান্দা। এর উপরে দুই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে চারটি শোবার ঘর বানানো যায়।

ঢাকার জনসংখ্যা গত ত্রিশ বছরে যত বেড়েছে, জমি সেভাবে বাড়েনি। ফলে চাহিদা এবং যোগানের ব্যবধানের কারণে জমির দাম বেড়েছে। এছাড়া জমিটি প্রথম মালিক যে দামে বিক্রি করেন, সেটা দুই তিন হাত ঘুরে ডেভেলপারের হাতে এসে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার কারণেও জমির দাম বেড়ে যায়।

রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। আমি অনেক ডেভেলপারকে ডেকে নিরসনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কারণ যদিও আমরা তাদের নিবন্ধন দিয়ে থাকি, কিন্তু অনেক ডেভেলপার আমাদের নিবন্ধিত আবার অনেকেই নিবন্ধিত নন। ফলে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এখন আমরা আইনের মাধ্যমে একটা ছাতার নিচে সবাইকে নিয়ে আসতে চাই যাতে অনিয়মগুলো দূর করা যায়।

রিহ্যাব সভাপতি মিঃ আলামিনও জানিয়েছেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ছয়শোর বেশি অভিযোগ সুরাহা করেছে রিহ্যাব। এর বাইরে মামলাও হয় প্রচুর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে যত মামলা হয় তার ৬০ শতাংশই হয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় সাড়ে আটশো বর্গ কিলোমিটারের ঢাকা শহরে দুই কোটির মত মানুষের আবাসের ব্যবস্থা করা একটি দুঃসাধ্য কাজ। জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানার বদলে দীর্ঘ মেয়াদে রেন্টাল ভিত্তিতে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।

এখন নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে গ্যাস ও পানির সংযোগের জন্য আলাদা অর্থ দিতে হয় ক্রেতাদের। কারণ সরকার একটা সময় পর্যন্ত নতুন প্রকল্পে এসব সংযোগ বন্ধ রেখেছিল। নতুন অনুমতি শুরু হবার পর, পুরনো আবেদন আগে বিবেচনায় আসছে। ফলে ক্রেতা এবং আবাসন ব্যবসায়ী সবাই বলছেন সরকারকে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত