প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া দশটি মজার ঘটনা

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা’ এমন কথা হরহামেশাই শোনা যায়। একটা সময় ব্রিটিশ সাহেবরাই দুনিয়ার নানা প্রান্তে ক্রিকেট খেলেছেন নিজেদের মতো করে। ইংরেজ সাহেবরা দেখতে শুনতে ভদ্র হলেও, আচার আচরণে কতটা ভদ্রলোক ছিলেন সে বিষয়ে বিস্তর তর্ক হয়ে যেতে পারে। তবে ক্রিকেট দিনে দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নানান রকম মানুষ খেলেছে, খেলছে।

সময়ের পরিক্রমায় ক্রিকেট অনেক বদলে গেছে। আগে ছিল না এমন অনেক কিছুই এখন ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। তেমনই ক্রিকেটিয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে ‘স্লেজিং’। স্লেজিং এর ঘটনাগুলো এমনিতে বেশ মজারই হয়। শুধু স্লেজিংই না, এমনিতেও ক্রিকেটে প্রায়শই ঘটে থাকে কাকতালীয় নানান ঘটনা। এমনই ১০টি মজার ঘটনা আজ থাকছে আপনাদের জন্য।

১. রবি শাস্ত্রী-মার্ক উইটনি
দলের দ্বাদশ সদস্য হলেও বা কী আসে যায়, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের প্রত্যেকটি সদস্যই তো স্লেজিং এ আলাদা ডিগ্রিধারী মানুষ! মার্ক উইটনিও তাই সে ‘গুণ’ এর সুবাদে ভারতীয় ব্যাটসম্যান রবি শাস্ত্রীকে নাস্তানাবুদ করতে চেয়েছিলেন মুখের ভাষায়। শাস্ত্রীর খেলা একটি শট বদলি ফিল্ডার উইটনির কাছে গেলে চিৎকার করে বলেন, ‘ক্রিজেই থাকো, নয়তো মাথা ফাটিয়ে দিবো’। কিন্তু উইটনি রীতিমত ছানাবড়া শাস্ত্রীর জবাবে। মুহূর্তও দেরি না করে শাস্ত্রী মুখ ভেংচে বলেছিলেন, ‘তুমি স্লেজিং এর মত বল করতে পারলে তো আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হতে না!’

২. ভিভ রিচার্ডস যেভাবে বলের সংজ্ঞা শেখালেন!
ভিভ রিচার্ডস ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগের একজন সেরা ব্যাটসম্যান। খেলাধুলার পাশাপাশি মুখের ভাষাতেও দারুণ পটু ছিলেন তিনি। একবার কাউন্টি ক্রিকেটে তাকে বল করছিলেন ওয়েলশ ক্রিকেটার গ্রেগ থমাস। ভিভকে রাগিয়ে দিতেই থমাস তার হাতের বলটি দেখিয়ে বলেন, ‘তুমি জেনে রাখো, এটার রঙ লাল, দেখতে গোল আর ওজন ৫ আউন্স’। কিন্তু ঠিক পরের বলেই ভিভ বলকে মাঠছাড়া করে থমাসকে ডেকে বললেন, ‘গ্রেগ, তুমি তো জানো এটা কেমন দেখতে, যাও খুঁজে আনো’।

৩. বিল উডফুল-ডগলাস জারডিন
মাঠের তীব্র অপমানটা বোধহয় সইতে হয়েছিল ইংলিশ ক্যাপ্টেন ডগলাস জারডিনকে। একটি ডেলিভারি মিস করার পর জারডিন অস্ট্রেলিয় ক্যাপ্টেন বিল উডফুলকে যেয়ে বলেন, ‘তোমার স্লিপ আমাকে বেজন্মা বলে গালি দিয়েছে’। কিন্তু উডফুলের অপমানসূচক উত্তরের জন্য তিনি একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। উডফুল তার ফিল্ডারদের দিকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কোন বেজন্মা এই বেজন্মাকে ‘বেজন্মা’ বলে গাল দিয়েছে?’

৪. এডো ব্র্যান্ডস-গ্লেন ম্যাকগ্রা
একবার জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান এডো ব্র্যান্ডসকে খোঁচা দিয়ে ম্যাকগ্রা বলেন, ‘তুমি এতো মোটা কেন’? কিন্তু ব্র্যান্ডসের উত্তরটা ছিলো আরও ধারালো। ব্যাট উচিয়ে ম্যাকগ্রার দিকে তাক করে তিনি বলেন, ‘যতবারই আমি তোমার স্ত্রীকে ভালোবাসি, সে আমাকে বিস্কুট খেতে দেয়’।

৫. পার্থিভ প্যাটেল-স্টিভ ওয়াহ
এসসিজির গ্রাউন্ডে ২০০৪ সালে পার্থিভ প্যাটেল তার অভিষিক্ত ম্যাচে ঘটালেন বিস্ময়কর ঘটনা, স্লেজ করার চেষ্টা করলেন তার চেয়ে বয়সে দ্বিগুনেরও বেশি স্টিভ ওয়াহকে। একটি স্লগ সুইপের পর পেছন থেকে প্যাটেল ওয়াহকে বলেন, ‘তুমি ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার আগে আর মাত্র একটিই স্লগ সুইপ করতে পারবে’। এরপর ঘুরে তাকিয়ে বললেন, ‘কিছুটা হলেও সম্মান দেখাও পিচ্চি। ১৮ বছর আগে আমার অভিষেক ম্যাচে তুমি তো ডায়পার পরে ঘুরতে’!

৬. মার্ভ হিউজ যখন টিকেট চেকার!
পেল্লাই গোঁফের আড়াল থেকে স্লেজিং এ বেশ ওস্তাদ ছিলেন অস্ট্রেলিয় বোলার মার্ভ হিউজ। তাকে স্লেজ করতে যেয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছিলেন জাভেদ মিঁয়াদাদ। অ্যাডিলেড টেস্টে বল করতে এলে হিউজকে দেখে মিঁয়াদাদ বলেন, ‘তুমি যেরকম মোটা, তোমার বাস চালক হওয়া উচিত’। এরপরই হিউজের বলে আউট হয়ে মিঁয়াদাদ যখন প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটছেন তখন হিউজ পাশে যেয়ে বলেন, ‘টিকেট প্লিজ!’

৭. ‘পাকিস্তানি’ টেন্ডুলকার!
টেন্ডুলকারকে কখনও ভারতের জার্সি ছাড়া অন্য কোন জার্সিতে কল্পনা করা সম্ভব? কল্পনায় এ চিন্তা না আসলেও বাস্তবে এটাই ঘটেছিল! ভারতের জার্সিতে টেন্ডুলকারের তখনও অভিষেক হয়নি। ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তানের এক প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে পাকিস্তানের হয়ে ফিল্ডিং করার জন্য পাঠানো হয়। পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে খেলছেন টেন্ডুলকার।

৮. ১১ এর কাকতাল
২০১১ সালের ১১ই নভেম্বর নেলসনে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে স্থানীয় সময় ঠিক ১১টা বেজে ১১ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১১ রান! সময় আর খেলার এমন আধ্যাত্মিক কাকতাল ক্রিকেট দুনিয়া আগে কখনও দেখেনি।

৯. শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম ইজ গ্রেটার দ্যান লর্ডস
ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। আর মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে খেলা হয় ২০০৬ সালে। দুই স্টেডিয়ামের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে ৪০ বছরের ফারাক থাকলেও মিরপুরে এখন পর্যন্ত ওয়ানডে সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১০০’রও বেশি। আর লর্ডসে? মাত্র ৬৬ টি!

১০. শত বার্ষিকীর টেস্ট ম্যাচের রেজাল্টে জাদু!
ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বপ্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় মের্লবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৮৭৭ সালে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৪৫ রানে। ঠিক তার ১০০ বছর পর ১৯৭৭ সালে টেস্টের শততম বার্ষিকী উদযাপনে সেই মেলবোর্নেই অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি টেস্ট ম্যাচ। ১০০ বছর পরেও সে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৪৫ রানে!
সুত্র-ইআরকি.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত