প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ উৎপাদনে ৯২ কোটি টাকার প্রকল্প

সাইদ রিপন: শুঁটকি মাছ আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান। এ মাছের স্বাদ ও গন্ধ ছাড়াও এটি অত্যন্ত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য। শুঁটকি মাছে সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ আমিষ এবং ৮ থেকে ২০ শতাংশ তৈল বা চর্বি থাকে।

পুষ্টিকর এ খাদ্যটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকরভাবে উৎপাদনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ‘নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটির জন্য ব্যয় হবে ৯২ কোটি টাকা। অনুমোদনের পর জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১ সালে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে সূর্যের আলোয় শুকানো শুটকি মাছের গুণাগতমান অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু মাছকে খোলা আকাশের নিচে শুকানো হয়, তাই বিভিন্ন ধরনের মাছি ও পোকামাকড় শুঁটকিতে ডিম পাড়ে, যা পরবর্তীতে গুদামজাত করার সময় পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয় এবং শুঁটকির ক্ষতি করে। পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য শুঁটকিতে নানা প্রকার ক্ষতিকর কীটনাশকও ব্যবহার করা হয়। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে বছরে প্রায় তিন থেকে চার মাস শুঁটকি মাছ তৈরি করা হয়। বর্তমান পদ্ধতিতে মাছ শুকাতে চার থেকে সাত দিন সময় লাগে। তাছাড়া মাছে ব্যবহৃত লবণ, ডিডিটিসহ কীটনাশক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি। স্বল্প বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ড্রয়ার ব্যবহার করে মাত্র একদিনে মাছ শুকানো যায় এবং ভ্যাকুয়াম প্যাকেজ করা হলে শুঁটকি মাছ ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তাছাড়া এ ড্রয়ারের মাধ্যমে মাছের আমিষ মান এবং ওমেগা ফ্যাটি এসিড অক্ষুন্ন থাকে। তাই বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম কেন্দ্র মাছ শুকানোর গবেষণা সুবিধা সংগ্রহ, পরীক্ষণ ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পার্টস সংযোজন গবেষনা পরিচালনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে অনুনমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রদর্শনী ও কস্টমাইজেশন প্রযুক্তি সুবিধা শক্তিশালীকরণ’ শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত আছে। ডিপিপি অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পে প্রস্তাবিত চাহিদা ২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, বিসিএসআইআর এর চট্টগ্রাম গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত মৎস চাষ প্রযুক্তি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কীটনাশনমুক্ত মাছ, সামদ্রিক আগাছা ইত্যাদি শুকানো ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির উপর গবেষণা করা, পানির পুনর্ব্যবহার করে মাছ ও পোনা তৈরির কলাকৌশলের উপর গবেষণা করাসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত