প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের

শাহানুজ্জামান টিটু ও শিহাবুল ইসলাম : প্রায় এক বছর পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জনসভা করছে বিএনপি। জনসভাকে মহাসমাবেশে পরিণত করতে ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। তবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিএনপির একক আয়োজন হওয়ায় জনসমাবেশে থাকবে না ২০ দলীয় জোটের নেতারা। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট, বাম জোট, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য জোটের নেতারা তাদের অবস্থান জানিয়েছে। এখন আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট করবো। ২৪ ফুট লন্বা ও ৫০ চওড়া জনসভার মঞ্চ এখন প্রস্তুত।

মূল ব্যানারে থাকবে, ‘অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর, করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনসভা। রাস্তায় কোনো মাইক থাকবে না। ৭০-৮০টি মাইক ব্যবহার করা হবে জনসভায়। দুপুর দুইটায় জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ৫০ জনর মতো মঞ্চে থাকবেন, দুপুর ১২ টা থেকে জাসাস এর উদ্যোগে সাংস্কৃতিক গণসংগীত শুরু করা হবে এবং দুপুর ২টা থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

জনসভা থেকে চলমান রাজনৈতিক অবস্থা, নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কনিশনের পদত্যাগ এবং পুনর্গঠন, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম বাতিলের দলীয় ৫ দফা দাবি ও ১২ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করা হবে। এছাড়া জাতীয় ঐক্য নিয়ে সুষ্পষ্ট বক্তব্য দেবে বিএনপি। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অভিনব জনসম্পৃক্ত কিছু কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারে। এরমধ্যে রয়েছে খালেদা জিয়ার কারাগারের চারদিকে রিং আকারে মানববন্ধনের মত কর্মসূচি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপি এককভাবে জনসভার আয়োজন করায় ২০ দলীয় জোটের শরীকদল ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ঢাকা মহানগর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে লাখো নেতাকর্মী জড়ো করার নির্দেশনা রয়েছে।

গতকাল দুপুরে সভাস্থল পরিদর্শন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নজরদারির মধ্য দিয়ে জনসভা করবে তার দল। বিএনপি জনসভায় সহিংসতা করবে, অস্থিরতা করবে আওয়ামীলীগের নেতারা এমন বক্তব্য দিচ্ছে, এসব আগাম কথা তারা বলছেন। বিএনপির মিটিংয়ে কেন বিএনপি অস্থিরতা তৈরি করবে? আমার ধারণা, সরকার এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটানোর জন্যই আগাম কথাগুলো বলছে। স্বভাবসুলভ ভাবে তারা বাস, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধ করতে পারে। এসব কিছু করবে, তারপরও আমরা এগুলো অতিক্রম করেই জনসভা করবো।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম বলেন, দীর্ঘদিন পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশ বিএনপি এককভাবে আয়োজন করেছে। সমাবেশ সফল করতে সবধরণের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। জনসভায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেন, ইনশাআল্লাহ, ঐতিহাসিক ও সাফল্যমন্ডিত জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ অন্যান্য জেলার নেতাকর্মীদের জনসভায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেন সরকার ও প্রশাসন সহযোগিতা করে এমনটাই প্রত্যাশা বিএনপির এই নেতার।

২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে সমাবেশ করতে পেরেছিলো দলটি। ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলের প্রধানকে কারাগারে রেখেই দলটি তাদের শক্তি দেখাতে জনসভার আয়োজন করেছে। এরআগে ২০১৬ সালের ১ মে শ্রমিক দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শ্রমিক সমাবেশ করেছিলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত