প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘…আর ফিরে আসতে পারবে না’?

বিভুরঞ্জন সরকার : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবি করছে, তারা সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। টানা প্রায় দশ বছর ক্ষমতায় থেকে তারা দেশের যে অগ্রগতি ও উন্নয়ন করেছে, তাতে আগামী নির্বাচনেও মানুষ তাদেরই ভোট দেবে। কারণ নিজের ভালো পাগলেও বোঝে। মানুষ নির্বাচনে নিশ্চয়ই এমন কাউকে ভোট দেবে না যারা উন্নয়নের চাকা ঘোরানো বন্ধ করে দেবে। মানুষের এটা জানা আছে যে, আমাদের দেশে সরকার বদল হলে নতুন সরকার আগের সরকারের উন্নয়নের কিংবা ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে তা বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের চালু করা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো খালেদা-নিজামী ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অথচ এগুলো ছিলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অত্যন্ত উপযোগী ও প্রয়োজনীয় একটি ব্যবস্থা। বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প, যার মধ্যে কিছু আছে মেগা প্রকল্প, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতির চেহারা যেমন বদলে যাবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনমানেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। তাই মানুষ একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকেই সরকারে দেখতে চাইবে।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশন যোগ দেয়ার জন্য আমেরিকা গিয়েছেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান এবং উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। তারাও শেখ হাসিনাকে পুনরায় সরকার প্রধান হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর মহাসচিব বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সংহতি ও পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে’। মহাসচিব অবশ্য এটাও বলেছেন যে, আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে, এটা জাতিসংঘও দেখতে চায়।

কিন্তু বিএনপির আশা ও ব্যাখ্যা আলাদা। বিএনপি এবং বিএনপিপন্থি কিছু বুদ্ধিজীবী মনে করেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না। আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে নাকি মাটি নেই। তাদের পরাজয় নিশ্চিত। জাতিসংঘেও গিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতিসংঘ কী বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারবে? জাতিসংঘ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। সেটা সরকারও চায়। বিএনপি অংশ নিলেই তো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় বা হবে!

কিন্তু বিএনপি তো নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে শর্তাধীন করে ফেলছে। জাতিসংঘ মহাসচিব কিন্তু বলেননি যে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা যাবে না। বরং জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি ও পূর্ণ সহযোগিতা’র কথাই বলেছেন। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আপনি অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের জন্য রোল মডেল হতে পারেন’। যিনি অন্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের জন্য রোল মডেল হতে পারেন, বিএনপি তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়! পাগল না মাথা খারাপ! বিএনপিকে উম্মাদনায় পেয়ে বসেছে বলে দেশের বাইরে কেউ তাদের পাগলামির সাথী হবে বলে মনে হয় না।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক সভায় বামতাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতার বাইরে গেলে আর কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না’। এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ধারণাপ্রসূত, নাকি কোনো গবেষণার ফল সেটা তিনি স্পষ্ট করেননি। আপাতত আশার কথা এটাই যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বদরুদ্দীন উমরের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য প্রমাণিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বাইরে রাখার জন্যই। বদরুদ্দীন উমরের ভাবশিষ্যরা তখন এবং ২০০১ সালের পরও বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না! ফল কি হয়েছে?

আওয়ামী লীগকে চিরদিন ক্ষমতার বাইরে রাখার নানামুখি ষড়যন্ত্র এখনও চলছে, এ তথ্য জানা আছে বলেই সম্ভবত এবার সরকারের সতর্কতা একটু বেশি। সরকার যে বিএনপিকে চোখে চোখে রাখছে, সভা-সমিতির অনুমতি দিতে যাচাই-বাছাই করছে, সেটা যে অনর্থক নয়, বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

পরিচিতি: গ্রুপ যুগ্ম-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত