প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

গণতন্ত্রের নামে চলছে ভয়াবহ দুঃশাসন

তাসলিমা আক্তার : শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য যখন আমরা মাঠে নেমেছিলাম তখনই  হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য তেড়ে এসে ভীষনভাবে রেগে গিয়ে জোটের নেতা শামীম ইমামকে বললো “মজুরী নিয়ে সমাবেশ করতে এসেছেন?  মজুরী নিয়ে কথা বলেন? সরকার বিরোধী কোন কথা বললে খুব খারাপ হবে।’’ তখনও ১২টি সংগঠনের জোট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ১৬ হাজার টাকা মজুরীর দাবিতে মীরপুরের মিল্কভিটা মোড়ে সমাবেশ চলছিলো। ব্যানারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাঁড়িয়ে ছিলো। কিন্তু সে যা ইচ্ছা তাই বললো। সরকার বিরোধী কথা বললে কী পরিণতি হবে সে বিষয়ে হুমকি দিতে শুরু করলো। পুলিশের আসল পরিচয় বেরিয়ে এলো। ঐ পুলিশ চট করে কথাগুলো বলেই একটুু দূরে সরে দাঁড়ালেন। পুলিশের কথা শুনে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য সারা শরীরে প্রচন্ড ক্রোধের তাড়া করা অনুভূতি হলো।

আমরা ৮ হাজার টাকার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ১৬ হাজার টাকার প্রস্তাব বিবেচনা করার দাবি এবং পুলিশের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানালাম। এবং আমারা সকলে এক জোটে প্রশ্ন তুললাম, পুলিশের পরিচয় নিয়ে। সেকি সত্যিই পুলিশ, না কোন দলের পেটোয়া  বাহিনী? এই পুলিশের নিয়োগ কীভাবে হয়েছে? দেশে ‘গণতান্ত্র’ কোথায়  আছে? একটা স্বাধীন দেশে শ্রমিক, জনগণ সরকারের বিরূদ্ধে কোন মত দিতে পারবে না সেটা খোদ পুলিশ এসে উচুঁ গলায় বলছে। এটা তখনই সম্ভব, যখন দেশে গণতান্ত্রের নামে একদলীয় দুঃশাসন চলে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে শ্রমিক জনতা এই দেশের প্রতিটি কোনায় কোনায় দাড়িঁয়ে।

ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা খোদ সংবিধান দিয়েছে। কারন, এ দেশের ধুলা-মাটি থেকে শুরু করে সব কিছু এই জনগণেরই। অথচ সরকার আর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকায় বুঝতে বাকি থাকে না যে, দেশে গণতন্ত্রের নামে আসলে চলছে ভয়াবহ দুঃশাসন। যেখানে ক্ষমতাসীনরা চায় একটি দলের মতের ভিত্তিতেই সব চলবে। কোন সমালোচনা তারা আজকাল আর বরদাস্ত করতে পারছে না। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে  আসছে, ক্ষমতার দাপট ক্ষমতাসীন দল এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী যাদের জনগণের সেবা করার কথা, তাদের চোখে-মুখে শারিরীক অঙ্গ-ভঙ্গিতে আরো প্রকটভাবে ধরা দিচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেবার সকল অপচেষ্টার বিরূদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামনে মজুরীসহ শ্রম আইনেও নানা সংশোধনী প্রস্তাবনা আসবে। যেগুলো ভীষনভাবে শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী। এসব কিছু মোকাবেলা করতে এবং শ্রমিক জনগণের সম্মান ও মর্যাদাবোধ রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প পথ নেই। সম্মান আর মর্যাদার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ সাহসী ভূমিকা ছাড়া সুশীল, ভদ্র আর নমনীয় ভাষায় কিংবা ডোন্ট ডিস্টার্ব গভমেন্ট লাইনে জান থাকলেও মান থাকবে না। চলুন, নিজের ও জাতির মান রক্ষার ঐক্যবদ্ধ হই।

পরিচিতি: শ্রমিক নেত্রী/মতামত গ্রহণ: তাওসিফ মাইমুন/ সস্পাদনা:ফাহিম আহমাদ বিজয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত