প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

বিএনপির জনসভা আজ

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় ১১ মাস পর আবারও রাজধানীতে বড় ধরণের জনসভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর এই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা। বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিতে বিএনপির আজকের জনসভা।

দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হবে জনসভাটি। সরকারের শেষ সময়ে দাবি আদায়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেয়ায় আজকের জনসভাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষকরা। আর গত ১ সেপ্টেম্বর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশের পর সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশ নিয়ে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। জনসভাটি সফল করার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বিএনপি। গতকাল (শনিবার) রাতেই প্রস্তুত করা হয়েছে সমাবেশের মঞ্চ। অতীতের যে কোন জনসভার চেয়ে এই জনসভায় লোক সংখ্যা ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি করার জন্য ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। একইসাথে আজকের জনসভা থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে দাবিগুলো বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে সেসব বিষয়ে একত্র করে উপস্থাপন করা হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এই জনসভাকে স্মরণকালের সেরা সমাবেশে রূপদানের জন্য প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে বিএনপিসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হয়ে সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরের কয়েক হাজার মানুষ রাজধানীতে এসে উপস্থিতও হয়েছেন। গতকাল রাত থেকেই সমাবেশ স্থলে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। সেখানে তারা সমাবেশের জন্য স্টেজ নির্মানসহ অন্যান্য প্রস্তুতি কাজে অংশগ্রহণ করেন এবং নিরাপত্তার জন্য নিজেদের উদ্যোগেই কাজ করেন। তাদের উপস্থিতি দেখে কেউ কেউ মন্তব্য করে ফেলেন, মূল সমাবেশের আগে রাতেই এতো মানুষের উপস্থিতিতে ছোট-খাটো সমাবেশও হয়ে গেছে। আজও সকাল থেকে আরও কয়েক লাখ মানুষের গন্তব্য থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়ে তারা সরকারের চলমান জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুনসহ অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন। দাবি জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমর্থন জানাবেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে দলটির দাবির প্রতি। কেবল বিএনপি নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সরকারকে বার্তাও দিতে চায় দলটি। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে চাঙ্গা হয়ে ওঠে দলের নেতাকর্মীরা।

এরপর থেকেই বড় ধরণের জনসভা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে বিএনপি। তাই ২৭ সেপ্টেম্বর থেকেই জনসভা করার জন্য চেষ্টা করছে দলটি। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দুই দফা অনুমতি দেয়ার পরও তা পিছিয়ে সর্বশেষ আজকের দিনে ২২টি শর্তে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে সমাবেশের ঘোষণা আসার পর থেকেই উজ্জীবিত ও চাঙ্গা নেতাকর্মীরা এবার ঢাকাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, উপস্থিতির দিক দিয়ে আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশকে স্মরণকালের সেরা সমাবেশে পরিণত করতে চান তারা। বিএনপির আজকের জনসভা ঐতিহাসিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা হবে ঐতিহাসিক। দলের শীর্ষ নেতারা আগামী দিনের কর্মসূচির বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। এই জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। নির্বাচনীকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক কী হবে, তার দিক নির্দেশনাও এ জনসভায় দলের শীর্ষ নেতারা দেবেন বলে জানান তিনি। যথা সময়ে জনসভায় যোগদানের জন্য বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ ঢাকাবাসীকে অনুরোধ জানান রিজভী।

জনসভাটিকে সফল করে তোলার জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা করেছে। পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা করেছে, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষকদলসহ সকল অঙ্গসংগঠনই। এসব সংগঠনের নেতারা সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেন। এজন্য ঢাকা মহানগরের নেতারা বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা রাজধানীর আশাপাশের জেলাগুলো থেকেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি আশা করছেন। জানা যায়, আজকের এই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের সাথে যোগ দিবেন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী। এজন্য গত কয়েকদিন এসব জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েকদফা বৈঠকও করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য সমাবেশ বিষয়ে বলছেন, বিএনপির সমাবেশে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হয়। এখানে আয়োজন করার কিছু নেই। সরকার বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা থেকে বিরত রেখেছে। এর ফলে মানুষও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি এবং সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের নিজেদের বঞ্চনা বোধ থেকে এবার সমাবেশে জনগণের ঢল নামবে। এ ছাড়া সরকার আবারও অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে কি না, এটা নিয়েও দেশের জনগণ অনেক বেশি উদ্বিগ্ন রয়েছে। এ কারণেও ব্যাপক জনসমাবেশ হবে। ঢাকার বাইরে থেকে মানুষ না এলেও এবার সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অন্য সব সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সমাবেশে জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ থাকবে। সরকারের শোষণ, নিপীড়নের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এ কারণে মানুষ বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ করবে। এই সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তো থাকবেই, তবে জনগণের উপস্থিতি অন্য সব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে মঞ্চ তৈরির কাজ দেখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে দাবিগুলো আছে, একত্র করে মিটিংয়ে আমরা তা উপস্থাপন করব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট যেমন: গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট এবং বাম জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আজকের সমাবেশে আমরা সুস্পষ্ঠভাবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।
অতীতে বিএনপির সমাবেশের দিন সরকার সারাদেশ থেকে ঢাকামুখী গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার তাদের স্বভাবসূলভ অনেক কিছ করতে পারে। তারা গাড়ি বন্ধ করতে পারে, রিকশা বন্ধ করতে পারে, ট্রেন বন্ধ করতে পারে আবার লঞ্চও বন্ধ করতে পারে। তারা অনেক কিছুই করতে পারে। তারা সবকিছু করবে তারপরও আমরা সেটাকে অতিক্রম করব।
তার সাথে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। গত বছর ১২ নভেম্বর সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল বিএনপি। ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত