প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

থেমে গেছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

ডেস্ক রিপোর্ট : মাঠপর্যায়ে ঝিমিয়ে পড়েছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। এই অবহেলার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমায় বাড়ছে জনসংখ্যা। তবে কাগজে-কলমে পরিবার পরিকল্পনায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও বাস্তবায়নের অভাবে এখনো অজ্ঞতা আর অনীহা রয়েছে দম্পতিদের মধ্যে।

জন্মনিয়ন্ত্রণে সচেতনতার অভাব রয়েছে গ্রামে, আর শহরের বস্তি ঘিরে নেই কোনো পরিকল্পনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিললাল হোসেন বলেন, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে তবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রত্যাশিত নয়। দেশে বর্তমান জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬২ দশমিক ৪। আর ১২ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী কিন্তু তাদের কাছে এই সেবা পৌঁছাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সার্ভিস প্রদানে ধীরগতি একটা কারণ হতে পারে। এই ১২ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীদের আওতায় এলে প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের আওতায় আসবে।

এটা বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের হিসাব মতে, ১৭৭৫ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর পদ্ধতি ব্যবহারকারী গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ড্রপআউটের হার এখনো ৪২ দশমিক ২ শতাংশ। ১২ দশমিক ৬ শতাংশ দম্পতির মধ্যে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার গত ৩৭ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে আট গুণ। অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে, বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রকল্প থাকলেও, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র মানুষগুলোর কাছে এসব সামগ্রী পৌঁছায় না বলে জানা গেছে। আবার অনেকেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। লজ্জার কারণে এসব নিয়ে জানতেও চান না তারা। এসবের সামগ্রিক ফল হিসেবেই জন্মনিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অসচেতনতা ও পদ্ধতি উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অনেক দম্পতির বেশি সংখ্যক সন্তান নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কিশোরী অবস্থায় সন্তান ধারণের জন্য দারিদ্র্য ও অশিক্ষাও বড় কারণ।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিসংখ্যানে পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার প্রত্যাশিত নয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর জানায়, পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার ১৯৭৫ সালের ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০১০ সালে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার সন্তোষজনক হারে বাড়েনি। ১২ দশমিক ৬ শতাংশ দম্পতির মধ্যে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপূর্ণ চাহিদার ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের মধ্যেই চাহিদার হার সবচেয়ে বেশি। এ হার ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এই বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার নিয়োগী বলেন, মাতৃমৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু রোধে আমাদের অবস্থান সন্তোষজনক। জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে আমাদের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের অবস্থান বর্তমানে ৬২ দশমিক ৪। প্রায় ১২ শতাংশ চাহিদা থাকলেও এখনো বিভিন্ন কারণে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য পূরণে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে গার্মেন্টে কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালু করতে এ বছর ৫৫০টি গার্মেন্টে কর্মসূচি চালু হচ্ছে। ‘আরবান স্লাম’ এরিয়াগুলোতেও নতুনভাবে আমাদের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত