প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটে কোন পথে যাবে বাম

ডেস্ক রিপোর্ট : বাম রাজনৈতিক দলগুলোর আর আগের মতো জৌলুস নেই। তবুও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ও জোট নিয়ে তাদের অবস্থান আলাদা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ঐক্য এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কোনো জোটেই নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল থাকছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। জাসদ (ইনু) পুরোপুরি বাম না হলেও তাদের অবস্থানও সরকারি দলের পক্ষে।

জাসদ থেকে ভেঙে যাওয়া অংশটুকুও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা কোনদিকে যাবে তা পরিষ্কার নয়। তবে সমঝোতায় পর্যাপ্ত আসন না পেলে তাদের মনোভাব বদল হতে পারে। কেউ কেউ ভিন্ন চিন্তাও করতে পারেন। এদিকে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন সংগঠন গণসংহতি আন্দোলন এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আরও বেশ কিছু বাম দল যোগাযোগ করছে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে গেলে পুরোপুরি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হবে এই বাম দলগুলো। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। বাম সংগঠনগুলো আগের মতো থাকতে চায় না। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির ভিতরেও চলছে আলোচনা। ভোটের অঙ্কে তাদের কেউ কেউ অবস্থান বদলের পক্ষে। কারণ জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে ভোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে কট্টর বামরাও। তবে কোনো কোনো বাম দলের ঠিকমতো অস্তিত্ব না থাকলেও ১৪ দলের কাছে আসন চাইতে তারা কার্পণ্য করছে না। নিজেদের কর্মী-সমর্থকের চেয়ে তারা অনেক বেশি আসন দাবি করছে। এ নিয়ে যুক্তিতর্ক চলছে বাম রাজনীতিতে। বাম রাজনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, অতীতে তারা গবেষণা করে বেশি সময় কাটিয়েছে। বাস্তব রাজনীতি নিয়ে যেভাবে অগ্রসর হওয়ার কথা তা তাদের ক্ষেত্রে হয়নি। এ কারণে বামদের বিভিন্ন সময় খেসারত দিতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রিধারায় বিভক্ত বাম দলগুলো রাজনীতিতে কোনো তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে থাকা স্বতন্ত্র বাম দলগুলোর মধ্যে সম্প্রতি ৮ দল মিলে বাম গণতান্ত্রিক জোট করেছে। কিন্তু এই জোটের ভবিষ্যৎ কী? তিনি বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে বাম দলগুলো হয়তো বড় ফ্যাক্টর নয়। কিন্তু এখনো কিছু মানুষ মনে করেন, ক্ষমতার পালাবদলকারী দলগুলোর বাইরে থাকা বাম দলগুলো সাধারণ জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে গিয়ে তারা দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কিনা এটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ‘একলা চলো রে’ নীতির কারণে তারা আইসোলেটেট হয়ে পড়েছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, মহানগর নাট্যমঞ্চে ড. কামাল হোসেনের অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ এবং জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন। যদিও তারা জোটের পক্ষ থেকে যাননি কিন্তু তাদের এ উপস্থিতি বাম গণতান্ত্রিক জোটে নতুন করে টানাপড়েনের সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সিপিবি-বাসদ এই দুই দলের জোট যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যে যাবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, প্রত্যেকটি দলেরই নিজস্ব রিডিং রয়েছে, মতাদর্শ রয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই ভোটের ক্ষেত্রে বড় কোনো ফ্যাক্টর না হলেও জাতীয় ইস্যুতে বামদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটু বেশি। তাই ভোটের রাজনীতিতে কোনো একটা দলকে উঠানো বা নামানোর খেলায় নামা বাম রাজনীতিবিদদের মানায় না। কোনো একটি দল খারাপ কাজ করছে বলে আরেকটি দলকে সাপোর্ট দিয়ে তাদের সঙ্গে ঐক্য করতে হবে এটি কোনো আদর্শিক রাজনীতি নয়। তবে সব বাম দল এক নয়। তাদের মধ্যে বড় ধরনের মতাদর্শগত পার্থক্যও রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আরও যত এগিয়ে আসবে দৃশ্যপট ততই পরিষ্কার হবে। কারণ আস্তিনের ভিতর অনেকেই অনেক কিছু লুকিয়ে রেখেছেন। সময় সুযোগে বের করার জন্য। সূত্র : বাংলাদেম প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত