প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই রানার আসনে অর্ধডজন প্রার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট : টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন যাবত কারাগারে থাকায় আসনটি দখলে নিতে আওয়ামী লীগের অর্ধডজন নেতা মাঠে নেমেছেন। বিএনপির প্রার্থীও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। বসে নেই জাতীয় পার্টি এবং জাকের পার্টিও।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর তেমন কোনো অবস্থান নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আমানুর রহমান খান রানা দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১২ সালে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের আগস্টে পুলিশি তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় আমানুর রহমান খান রানা এবং তার অপর তিন ভাই জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। এমপি রানা কারাগারে থাকায় এই আসনটি দখলে নেওয়ার জন্য মাঠে অর্ধডজন প্রার্থী নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ নিয়ে আলোচনা চলছে দলীয় নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম লেবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক নুরুল আলম তালুকদার, সাবেক এমপি ডা. মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান, তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধীর চন্দ্র সরকার।

এ ছাড়া এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চারবারের সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী লুত্ফর রহমান খান আজাদ, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাঈনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির উপজেলা সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মিয়া মোহাম্মদ হাসান আলী রেজা, জেলা জাকের পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. ছালাম হোসেন খান দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগ করছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী লুত্ফর রহমান খান আজাদ। ২০০৮ সালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মতিউর রহমান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে দীর্ঘদিন পর আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে আসে। ডা. মতিউর রহমান ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ায় উপনির্বাচনে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন শামসুর রহমান খানের ভাতিজা তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান রানা। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবুকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। পরে তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, তৃণমূল পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে দল মনোনয়ন দিলে আমি দলীয় মনোনয়ন পাব। কারণ তৃণমূল পর্যায়ের সব নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন আমার প্রতি রয়েছে। বিশিষ্ট শিল্পপতি আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি ঘাটাইলে দিতে এসেছি নিতে নয়। আমার যে বয়স তাতে আমি এমপি নির্বাচিত হলে টিআর কাবিখা চুরি করে খাব না।

আমি ঘাটাইলকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সোনালী ব্যাংকের পরিচালক নুরুল আলম তালুকদার বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। এ আসনে বিএনপির রয়েছে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর এমপি থাকায় লুত্ফর রহমান খান আজাদ এলাকায় অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। দলে তার একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রার্থী হিসেবে তিনি খুব শক্তিশালী বলে এলাকার মানুষ মনে করেন। তবে এর আগে তার বিপক্ষে কেউ মনোনয়ন না চাইলেও এবার প্রার্থী হতে চাচ্ছেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম। বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফর রহমান খান আজাদ বলেন, আমি মন্ত্রী থাকাকালীন ঘাটাইলের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। জনগণ সে কারণে আমাকে সব সময়ই সমর্থন করছে। আগামী নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ