প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রীপুরে অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বনায়নের প্লট বরাদ্দ!

ডেস্ক রিপোর্ট : নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই শ্রীপুর উপজেলার সিমলাপাড়া বিটে অর্থের বিনিময়ে চলছে ‘সামাজিক বনায়নের উডলট বাগানের’ বদলে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য প্লট বরাদ্দ।

বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক বনায়নে উডলট বাগানের লভ্যাংশের টাকা বিতরণে উপকারভোগীদের কাছে ঘুষ দাবির। চলছে বনের গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করে মাটি বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম। যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য বরাদ্দ অর্থ।

অথচ সামাজিক বনায়নের নীতিমালায় বলা আছে, ভূমিহীন, দরিদ্র, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্ত গ্রামীণ জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করাই সামাজিক বনায়নের প্রধান লক্ষ্য।

সামাজিক বনায়নের মূল উদ্দেশ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করা এবং তাদের খাদ্য, পশুখাদ্য, জ্বালানি, আসবাবপত্র ও মূলধনের চাহিদা পূরণ করা।

সিমলাপাড়া বিটের আওতাধীন সামাজিক বনায়ন উডলট বাগানের ৩নং প্লটের উপকার ভোগী সিংগারদিঘী গ্রামের মফিজ উদ্দিন বলেন, ২০০৩ সালে ১০ বছর মেয়াদি এক হেক্টর জমির প্লট বরাদ্দ পাই। মেয়াদান্তে প্লট বিক্রি হয়ে গেলেও এখনও টাকা পায়নি। বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অফিস থেকে লাঞ্চিত করে বের করে দেয়। সামাজিক বনায়নে উডলট বাগানের গাছ বিক্রি করে নতুন করে প্লটে চারা রোপণ করতেও টাকা দাবি করে।

সিংগারদিঘী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে সুরুজ আলী ২০০৩ সালে একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

তিনি জানান, চলতি বছর প্লটের গাছ বিক্রির পর বন বিভাগ জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশ দেয়। নিজ খরচে জঙ্গল পরিষ্কার করার পরও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আবার প্লট বরাদ্দ দেন বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। কারওয়ান বাজার এলাকার শামসুল হক ও তার ভাই আবুল কাশির কাছ থেকে ও একই কায়দায় ২৫ হাজার টাকা নিয়ে প্লট বরাদ্দ দেন।

বদনীভাঙ্গা বংশী পাড়া এলাকার আবুল হোসেন জানান, প্লটের জন্য বিট কর্মকর্তা তার কাছে ২৫ হাজার টাকা চান। টাকা যোগাড় করতে না পারায় প্লট বরাদ্দ পাননি।

এছাড়াও টাকার বিনিময়ে বদনীভাঙ্গা গ্রামের ফজলুল হক, হযরত আলী, রানা মিয়া, আনোয়ার হোসেন, গৌর বাবু, অনিল বাবু, নামরাল বাবু, আফাজ উদ্দিন, শৈলাশ বর্মন, নিমাই চন্দ্র বর্মন, শ্যামল বর্মনসহ আরো অনেককে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মাওনা ইউনিয়নের হাসিখালি ব্রিজের পূর্ব পাশে শফিক মোড়ল বন কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের জমি দখল করে পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করেছেন। সিংগারদিঘী গ্রামের আব্দুস ছামাদ বনের জায়গায়তে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বনের গার্ড শাহজাহান মিয়া ছামাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে, তার বসতবাড়ি ভেঙে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।

একাধিক বন মামলার আসামি সাত্তার ও রুবেলের সহযোগিতায় বিট কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট বনের শাল-গজারীসহ মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে উজাড় করছে বনভূমি।

বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গত ১ বছর ধরে সিমলাপাড়া বিটে যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বনের জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করলে তাকে কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও ইট ভাটায় সরবরাহ, বদনীভাঙ্গা গ্রামের নমনীর চালা ও গফারবান্দা নামক স্থানে বনের জমির মাটি কেটে তা স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে রুবেল বলেন, আমি প্রায় এক বছর আগে নিজ জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেছি। আর গাছ বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নয়।

বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টাকার বিনিময়ে প্লট বরাদ্দের অভিযোগটি সঠিক নয়। এলাকার বিভিন্ন লোকজন অনৈতিক দাবি নিয়ে আসলে রাখা সম্ভব হয় না। যাদের দাবি মানা সম্ভব নয়, তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সকল অভিযোগ মিথ্যে বলে জানান তিনি।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, টাকার বিনিময়ে কোনো প্লট বরাদ্দ দেয়ার বিধান নেই, কেউ যদি বিট র্কমর্কতা কে টাকা দিয়ে থাকে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক এনামুল হক জানান, এসব অনিয়মের খবর তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত