প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ওহ্হাব মিয়া পেলেও সিনহা পাননি পেনশনের টাকা

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা আপিলের নিষ্পত্তির পর আমি নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম আমার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উপর দ্বিতীয় অভিমত জানতে এবং জানলাম তা যথাযথ হয়েছে। এতে প্রাণঘাতী রোগমুক্তির প্রশান্তি মিলেছে। তাতে নতুন জীবন ফিরে পেয়ে জুডিশিয়ারিতে উদ্ভাবনী প্রয়াসে নিবেদিত হই। নিউইয়র্ক থেকে বস্টন গিয়ে ছোট ভাই ডা. অনন্ত কুমার সিনহার সঙ্গে দেখা করি ও হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে যাই। আমি কিছু বই কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি। আমার ভাই আনন্দে চিকিৎসার ঋণ পরিশোধে আমাকে কিছু অর্থ দেয়, যা আমার পরামর্শে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পাঠানো হয়। আমি পিতা-মাতার স্মরণে ‘ললিত মোহন ও ধনবতী ট্রাস্ট’ রেজিস্টারসহ ২৫ লাখ টাকা অনুদানের অর্থে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ অ্যাকাউন্ট করে সুদের টাকায় ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করি। আমার ভগ্নিপতি ডা. নন্দ কিশোর সিনহা ও গ্রামবাসীর প্রচেষ্টায় পিতার স্মরণে ‘ললিত মোহন গণগ্রন্থাগার’ প্রতিষ্ঠা করি। সেজন্য নিজে ৩০ লাখ টাকার বই কিনে দেই। সেখানে বছরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কম্পিউটার ডিপ্লোমা অর্জন করে কাজে লাগাচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীদের উপর্যুপরি চাপে লাইব্রেরি ও শিক্ষায়তন মিলে দুটি দ্বিতল ও চতুর্থতল দালান গড়ে তোলা হয়েছে। আমাদের এলাকায় নিজ সম্প্রদায়ের মানুষেরই বসবাস এবং থানার চল্লিশ শতাংশ জনবসতি হিন্দু। তাদের সৎকারের শ্মশান ছোট নদীর ধারে ছিল। এখন কাঠে পোড়ানোর আধুনিক ব্যবস্থা হয়েছে। কেননা বর্ষাকালে বানের স্রোতে তা ধুয়ে যেত। তাই ধলাই নদীর তীরে আমি ২৫ ডেসিমল জমি সংগ্রহ করি। নিজে শ্মশানের জন্য ২৫ লাখ টাকা খরচ করেছি এবং আরও ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন। প্রত্যাশা ছিল নিজের পেনসনের টাকায় বাকি কাজ সম্পন্ন করবো, কিন্তু সরকার এখনও তা অজানা কারণে দেয়নি; যদিও বিচারপতি মো. ওহ্হাব মিয়া আমার পরে পদত্যাগ করে সাথে সাথেই তা পেয়েছেন। ওই প্রকল্পটি শেষ হলে মৌলভীবাজার জেলার সব মৃতদেহের সৎকার বিনামূল্যে দ্রুত সম্পন্ন করা যেত।
আমার আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে  স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাহায্য জোগানো এবং সেক্ষেত্রে ৩০-৩৪ জন শিক্ষার্থীকে গত ছয় থেকে সাত বছর যাবত মাসে ২০০০-২৫০০ টাকা দিতাম। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে সে সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে। আমি ওই সব দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অনুভব করি যারা পড়াশোনার খরচ নির্বাহ করতে পারছে না। আমি তাদের সাহায্যার্থে পুরোপুরি অক্ষম, যদিও এ সময়ে তারা আমার দাতব্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে। আমি কন্যাদায়গ্রস্থ অভিভাবক ও মৃতের পরিবারকে শ্রাদ্ধের কাজে সাহায্য করতাম। আনুমানিক ১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয় হতো। বছরে দুবার মুসলমানদের জন্য ও হিন্দুদের দুর্গাপুজায় কাপড় দিতাম। পাশাপাশি দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে শীতে কম্বল দিতাম। সবই ছিল অভিভাবকদের স্মরণে। ব্যতিক্রম একটাই পাশের মাধবপুর গ্রামবাসী আমার নামে ‘বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্কুল ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে, যা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উদ্বোধন করেন। বাধ্য হয়েই সেখানে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছি। প্রত্যাশা ছিল সেখানে সেলাই প্রকল্প চালু করবো, সেজন্য কিছু সেলাই মেশিনও সংগ্রহ করে রেখেছি। তিনটি মাছের প্রকল্পেও বিনিয়োগ ছিল। এ সব নিয়েই দুর্ভাবনা রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: ধারাবাহিক পর্যায়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রচিত বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ের চুম্বকাংশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

ই- মেইল :  [email protected]

সম্পাদনা : শরিফ উদ্দিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত