প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘একাত্তরের গণহত্যা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন সমাপ্ত
গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে হবে

আরিফুর রহমান তুহিন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বাঙালির উপর যে গণহত্যা পরিচালিত হয়েছিল তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। এজন্য তারা সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ‘১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট’ কর্তৃক আয়োজিত ‘১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৮’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের সমাপনিতে তারা এ দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে বাঙালিদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে।এখনো তারা বেলুচিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। পাকিস্তান ধংস হবেই। ‘১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট’ খুব অল্পদিন হয়েছে যাত্রা শুরু করেছে।এরই মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আন্দোলন আরো বেগবান হবে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রসঙ্গে মামুন বলেন, ৭১ এর গণহত্যার মত মিয়ানমার সামরিক জান্তা ৫০ বছর ধরে সেদেশের নাগরিকদের গণহত্যা করছে। আর এতে সমর্থন দিচ্ছে চীন। এই সামরিক জান্তাদের অবশ্যই গণহত্যার দায়ে বিচার হতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে গণহত্যায় সমর্থন দেওয়ার জন্য চীনকে নিন্দা জানান।

আসামের দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গের সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও আসামের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মুক্তিযুদ্ধের সময় আসাম ছিল বাংলাদেশের যোদ্ধাদের একটি আশ্রয়কেন্দ্র। বাংলাদেশ আগরতলায় একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রদর্শনী করেছে। কিন্তু এই প্রদর্শনী যৌথ উদ্যোগে হলে আরো ভালো হবে। আসামের মানুষ জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করা বাংলাদেশ এখন কেমন আছে। কি পরিমাণ গণহত্যা তখন সংগঠিত হয়েছিলো। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলতে হলে দুই অঞ্চলের মানুষকে এক সাথে কাজ করতে হবে।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা লাখুমল লুহানা বলেন, পাকিস্তান যুগের পর যুগ গণহত্যা করে আসছে। তারা ৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা করেই খ্যান্ত হয়নি। এখনো তারা বেলুচিস্তানে গণহত্যা করে যাচ্ছে। তারা বেলুচিস্তানে কোনো নেতাকেই বাঁচতে দেয়নি। টিক্কা খান বলেছিলেন ‘আমরা মানুষ চাই না, মাটি চাই’। এমন আত্মস্বীকৃত গণহত্যার ৪৭ বছরেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা যায়নি। এমনকি এর বিচারের জন্যও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ জাতিসংঘে গণহত্যার বিষয়ে স্পষ্ট আইন রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত স্যামুয়েল জ্যাফি বলেন, আর কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। বাংলাদেশের ইতিহাস এক রক্তাক্ত ইতিহাস। তবে তিনি গণহত্যার বিষয়ে যেটুকু জেনেছেন তা কেবল কিছু পত্রিকা বা মার্কিন লেখকদের বই থেকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা নিয়ে তেমন কোনো লেখালেখি হয়নি। ৭১এর গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার বিষয়ে সঠিক ইতিহাস সম্বলিত গ্রন্থ রচনার দাবি জানান তিনি।

সংস্কৃত মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ৭৫ পরবর্তি সময়ে যারা শাসন করেছে তারা এদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার এর চর্চা শুরু হয়েছে। সরকার গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে পড়ানো হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেগুলো পড়াচ্ছে সেগুলো ইতিহারের পর্যায়ে পরে না। দেশের মাত্র ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা হয়। তা-ও আবার সক্ষমতার তুলনায় ১ শতাংশ। দেশের বিশাল সংখ্যক কলেজে ইতিহাসের শিক্ষকই নেই। অথচ অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের শিক্ষক রয়েছে। মূলত সর্ষের মধ্যে ভূত থাকার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

অনুষ্ঠানে এ বছর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ রচনার জন্য ৩ জনকে অধ্যাপকে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, চৌধুরী শহিদ কাদের, মামুন সিদ্দিকী ও মুর্শিদা বিনতে রহমান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ